...|...|...

লাইফস্টাইল

স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের সুস্থতায় উপকারী ১০ খাবার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:০৯
Shares
স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের সুস্থতায় উপকারী ১০ খাবার

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ১০ খাবার। ছবি: এআই জেনারেটেড

ব্যস্ত জীবনযাপন, অনিয়মিত ঘুম কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে অনেকেরই মনোযোগ ধরে রাখা বা প্রয়োজনীয় তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে জীবনযাপনের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিকর কিছু খাবার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

নিউরো হেলথ অবলম্বনে জানা যায়, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, কোলাইন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় এমন পুষ্টিকর খাবার রাখলে দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। জেনে নেওয়া যাক এমন ১০টি খাবার সম্পর্কে-

১. তৈলাক্ত 

স্যামন, সার্ডিন বা অন্যান্য সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস। মস্তিষ্কের কোষ ও স্নায়ুর স্বাভাবিক গঠনে এই ফ্যাটি অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় তৈলাক্ত মাছ রাখা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।

২. ডিম

ডিমে রয়েছে কোলাইন, যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় একটি পুষ্টি উপাদান। এটি স্মৃতি ও শেখার প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ডিমে থাকা ট্রিপটোফ্যান শরীরে সেরোটোনিন তৈরিতেও সহায়তা করে, যা মেজাজ নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত।

৩. বেরি জাতীয় ফল

স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি ও ব্ল্যাকবেরির মতো ফলে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে। এসব উপাদান কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার পাশাপাশি বয়সের সাথে দেখা দেওয়া মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতেও এগুলো সহায়ক হতে পারে।

৪. অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোতে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য উপকারী। এ ধরনের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

৫. কেল ও সবুজ শাক

কেলসহ বিভিন্ন গাঢ় সবুজ শাকে ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে ভিটামিন কে মস্তিষ্কের কার্যক্রম ও স্মৃতির সাথে সম্পর্কিত। এসব শাক খাদ্যতালিকায় রাখলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার পাশাপাশি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।

৬. সামুদ্রিক শৈবাল

সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন ও ভিটামিন বি-১২সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন প্রয়োজনীয়, আর ভিটামিন বি-১২ স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা কিছু উপাদান মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে।

৭. ডার্ক চকোলেট

পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকোলেট খাওয়া মস্তিষ্কের জন্য উপকারী হতে পারে। এতে থাকা কোকো উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তপ্রবাহ ও মস্তিষ্কের কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সামান্য ক্যাফেইন থাকার কারণে এটি মনোযোগ ধরে রাখতেও সহায়তা করতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি থাকা চকোলেট এড়িয়ে চলাই ভালো।

৮. আখরোট

আখরোটে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩। এসব পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষা দিতে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত পরিমিত আখরোট খাওয়া স্মৃতি ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য উপকারী হতে পারে।

৯. হলুদ

হলুদে থাকা কারকিউমিনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি শরীরের প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ ক্ষতি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রেও হলুদের এই উপাদান উপকারী হতে পারে।

১০. অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েলে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। এটি খাদ্যতালিকায় থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বির একটি ভালো উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। নিয়মিত ও পরিমিত ব্যবহারে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জ্ঞানীয় স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে।

স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে শুধু একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।