...|...|...

লাইফস্টাইল

ঠান্ডা পানিতে গোসলের ৮ স্বাস্থ্য উপকারিতা, গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:২৯
Shares
ঠান্ডা পানিতে গোসলের ৮ স্বাস্থ্য উপকারিতা, গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

গরমের দিনে ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আবার কেউ কেউ প্রতিদিনের গোসলের অভ্যাসে ঠান্ডা পানিকেই বেছে নেন। শুধু শরীর ঠান্ডা রাখাই নয়, ঠান্ডা পানিতে গোসলের কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও রয়েছে। এটি শরীরকে সতেজ করতে, ব্যায়ামের পর পেশির অস্বস্তি কমাতে এবং সাময়িকভাবে মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী ড. লেনা গ্লেজারের গবেষণায় উঠে এসেছে, ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এলে শরীরে কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে। তবে সব উপকারিতার পক্ষে সমান মাত্রার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই ঠান্ডা পানিতে গোসলের সম্ভাব্য আটটি উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. রক্ত সঞ্চালনে প্রভাব ফেলে

ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এলে শরীরের রক্তনালিগুলো সাময়িকভাবে সংকুচিত হয়। শরীর আবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসার সময় রক্তনালির প্রসারণ ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় রক্ত সঞ্চালনে সাময়িক পরিবর্তন দেখা যায়।

এ ছাড়া ঠান্ডা পানির সংস্পর্শ শরীরের স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করতে পারে। তবে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে বা হৃদরোগের ঝুঁকি কমে-এমন দাবির পক্ষে এখনো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

২. ব্যায়ামের পর পেশির অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে

কঠোর ব্যায়াম বা খেলাধুলার পর অনেক সময় পেশিতে ব্যথা ও অস্বস্তি দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানির সংস্পর্শ কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

ঠান্ডা পানি শরীরের তাপমাত্রা কমাতে এবং ব্যায়ামের পর পেশির ব্যথা ও ফোলাভাব সাময়িকভাবে কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।

তবে সাধারণ গোসল এবং দীর্ঘ সময় ঠান্ডা পানিতে ডুবে থাকার প্রভাব এক নয়।

৩. সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়াতে পারে

সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শরীর দ্রুত সজাগ হয়ে ওঠে। হঠাৎ ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এলে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।

এ সময় স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হওয়ার কারণে সাময়িকভাবে সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়তে পারে। ফলে অনেকেই সকালে ঠান্ডা পানিতে গোসলের পর বেশি সতেজ অনুভব করেন।

৪. ত্বক ও চুলের যত্নে সহায়ক হতে পারে

অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে গিয়ে শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। তুলনামূলক ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহারে এ সমস্যা কিছুটা এড়ানো সম্ভব।

এ ছাড়া ঠান্ডা পানি চুলের কিউটিকল বা বাইরের স্তরে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলেই ব্রণ, একজিমা বা চুল পড়ার সমস্যা দূর হয়-এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

৫. বিপাকীয় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে

শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে ঠান্ডার সংস্পর্শে এলে শরীরকে অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন করতে হয়। এ সময় শক্তি ব্যয়ের পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে।

ঠান্ডা পরিবেশে শরীরের বাদামি চর্বি বা ব্রাউন ফ্যাট সক্রিয় হয়। এই চর্বি ক্যালরি ব্যবহার করে তাপ উৎপন্ন করে। ফলে বিপাকীয় কার্যক্রমে পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে শুধু ঠান্ডা পানিতে গোসল করলেই উল্লেখযোগ্য ওজন কমবে, এমন প্রমাণ নেই। ওজন নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৬. মেজাজ ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে

ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে শরীরে কিছু হরমোন ও স্নায়বিক রাসায়নিকের কার্যক্রমে পরিবর্তন আসে। এর ফলে সাময়িকভাবে সতেজতা ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

কিছু গবেষণায় ঠান্ডা পানির সংস্পর্শের সঙ্গে মানসিক সুস্থতার ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এটি উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার চিকিৎসার বিকল্প নয়।

৭. মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারে

ঠান্ডা পানিতে গোসলের শুরুতে অনেকেরই অস্বস্তি হয়। ধীরে ধীরে এই অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে নিজের অস্বস্তি নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা তৈরি হতে পারে।

অনেকে মনে করেন, নিয়মিত ঠান্ডা পানিতে গোসল তাঁদের শৃঙ্খলা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তবে এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

৮. ঘুমের মান উন্নত করতে পারে

ঘুমের আগে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে কিছুটা কমে আসে। এই পরিবর্তন ঘুমের প্রস্তুতির একটি অংশ।

তবে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলেই ভালো ঘুম হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি শরীরকে উত্তেজিত করে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ঘুমের আগে কুসুম গরম পানিতে গোসল অনেকের জন্য বেশি আরামদায়ক হতে পারে।

ঠান্ডা পানিতে গোসলের ক্ষেত্রে সতর্কতা

ঠান্ডা পানিতে গোসল সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। বিশেষ করে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট বা রক্ত সঞ্চালনজনিত সমস্যা থাকলে হঠাৎ খুব ঠান্ডা পানিতে গোসল করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

  • হঠাৎ বরফঠান্ডা পানি শরীরে ঢালবেন না।
  • প্রথমে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করে ধীরে ধীরে ঠান্ডা পানিতে অভ্যস্ত হন।
  • গোসলের সময় অতিরিক্ত কাঁপুনি, শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হলে গোসল বন্ধ করুন।
  • শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন।

সব মিলিয়ে, ঠান্ডা পানিতে গোসল শরীরকে সতেজ রাখতে এবং ব্যায়ামের পর সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে একে সব ধরনের শারীরিক সমস্যার সমাধান বা ওজন কমানোর বিশেষ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে গোসলের জন্য উপযুক্ত পানির তাপমাত্রা বেছে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।