...|...|...

লাইফস্টাইল

সুগার মাপার সঠিক সময় কোনটি, জানুন চিকিৎসকের পরামর্শ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৪১
Shares
সুগার মাপার সঠিক সময় কোনটি, জানুন চিকিৎসকের পরামর্শ

ছবি: সংগৃহীত

ডায়াবিটিস ও প্রি-ডায়াবিটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে বাড়িতে গ্লুকোমিটারের সাহায্যে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করছেন অনেকেই। তবে দিনের বিভিন্ন সময়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় পরিবর্তন হতে পারে। খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, ঘুম ও মানসিক চাপের মতো বিষয়ও এতে প্রভাব ফেলে।

এ কারণে শুধু একবার রক্তে শর্করা পরীক্ষা করে সারাদিনের অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়। খালি পেটে, খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর এবং গত তিন মাসের গড় শর্করার মাত্রা জানতে এইচবিএ১সি পরীক্ষা-প্রতিটির রয়েছে আলাদা গুরুত্ব। কোন পরীক্ষায় কী জানা যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কত থাকা উচিত, তা জানিয়েছেন মধুমেহ রোগের চিকিৎসক আশিস মিত্র।

খালি পেটে ও খাবারের পর সুগার পরীক্ষার পার্থক্য

ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা এফপিজি পরীক্ষা করতে অন্তত আট ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। এ পরীক্ষার মাধ্যমে খাবার গ্রহণ না করার অবস্থায় শরীর কীভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করছে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল বা খাবারের পর রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা হয় খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর। এতে খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শরীর কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, তা বোঝা যায়।

চিকিৎসক আশিস মিত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রক্তে শর্করার মাত্রার মানদণ্ড হলো-

খালি পেটে: রক্তে শর্করার মাত্রা ১১০-এর নিচে থাকলে স্বাভাবিক। ১১০ থেকে ১২৫-এর মধ্যে থাকলে প্রি-ডায়াবিটিস এবং ১২৬ বা তার বেশি হলে ডায়াবিটিসের ইঙ্গিত দেয়।

খাবারের দুই ঘণ্টা পর: রক্তে শর্করার মাত্রা ১৪০-এর নিচে থাকলে স্বাভাবিক। ১৪০ থেকে ১৯৯-এর মধ্যে থাকলে প্রি-ডায়াবিটিস এবং ২০০ বা তার বেশি হলে ডায়াবিটিসের ইঙ্গিত দেয়।

এইচবিএ১সি: গত তিন মাসের গড় রক্তে শর্করার মাত্রা জানতে এই পরীক্ষা করা হয়। ফল ৫.৭ শতাংশের নিচে থাকলে স্বাভাবিক, ৫.৭ থেকে ৬.৪ শতাংশ হলে প্রি-ডায়াবিটিস এবং ৬.৫ শতাংশ বা তার বেশি হলে ডায়াবিটিসের ইঙ্গিত দেয়।

রক্তে শর্করার মাত্রা কত রাখা উচিত?

ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু পরীক্ষার ফলাফল জানাই যথেষ্ট নয়, বরং রক্তে শর্করার মাত্রা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখাও জরুরি।

চিকিৎসক আশিস মিত্র বলেন, ‘‘খালি পেটে ব্লাড সুগার ৯০ থেকে ১১০-এর মধ্যে আর ভরা পেটে সাধারণত ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করা উচিত। বাড়িতে যাঁরা সুগার মাপেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ, কেবল দিনে এক বার করে পরীক্ষা করলে হবে না। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করতে হবে। কারণ, কোনও কোনও রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা এবং ভরা পেটে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু এইচবিএ১সি ৬.৫ শতাংশের বেশি। এটা কেন হয়? যদি কেবল মধ্যাহ্নভোজের পর সুগার চেক করেন, তা হলে সম্পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায় না। হয়তো বা প্রাতরাশ বা নৈশভোজের পর সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়, কিন্তু পরীক্ষা করেন না বলে জানতে পারেন না। এমনও হতে পারে, সুগার কমে গিয়ে খিদে পাচ্ছে, তখন পেট ভরে খাবার খেয়ে নিচ্ছেন, আর সেই সময়ে সুগারটা অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে।’’

এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, বিভিন্ন বেলার খাবারের দুই ঘণ্টা পর পালাক্রমে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা যেতে পারে। এতে দিনের বিভিন্ন সময়ে গ্লুকোজের মাত্রা ওঠানামার বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। শুধু এক বেলার পরীক্ষার ওপর নির্ভর করলে অন্য সময়ের শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি অজানা থেকে যেতে পারে।

সুগার কমে গেলেও রয়েছে ঝুঁকি

রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কমে যাওয়াও বিপজ্জনক। চিকিৎসকের মতে, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৭০-এ নেমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এ কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা সব সময় ৮০-এর ওপরে রাখার চেষ্টা করা দরকার।

তবে সবার জন্য রক্তে শর্করার লক্ষ্যমাত্রা এক নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, ব্যবহৃত ওষুধ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনায় লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হয়। তাই গ্লুকোমিটারে পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী নিজে নিজে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: আনন্দবাজার