শীতের মৌসুমে বাজারে পাওয়া যায় নানা ধরনের সবজি। এর মধ্যে শিম ও শিমের বিচি অনেকেরই পছন্দের খাবার। মাছ, বেগুন কিংবা অন্যান্য সবজির সাথে শিমের বিচি রান্না করলে খাবারের স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও এটি ভূমিকা রাখে।
শিমের বিচিতে রয়েছে উদ্ভিজ্জ আমিষ, শর্করা, খাদ্য আঁশ, বিভিন্ন খনিজ ও ভিটামিন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত মাছ-মাংস খান না, তাদের জন্য এটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ভালো উৎস হতে পারে। মেডিকেল নিউজ টুডের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে শিমজাতীয় খাবারের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা।
১. শরীরে আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়ক
শরীরের পেশি গঠন, কোষের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণে প্রোটিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শিমের বিচিতে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, যা দৈনিক আমিষের চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। বিশেষ করে নিরামিষভোজীদের খাদ্যতালিকায় এটি রাখতে পারেন।
২. হজমশক্তি ভালো রাখে
শিমের বিচিতে থাকা খাদ্য আঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে এবং হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।
৩. হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
শিমের বিচির খাদ্য আঁশ ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি খেলে রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
৪. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
শিমের বিচিতে থাকা আঁশ খাবার হজম ও শর্করা শোষণের গতি ধীর করতে সাহায্য করে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমাণ অনুযায়ী খাওয়া জরুরি।
৫. হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখে
হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ প্রয়োজন। শিমের বিচিতে কিছু পরিমাণ ক্যালসিয়াসহ প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি হাড়ের স্বাস্থ্যে অবদান রাখতে পারে।
৬. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
শিমের বিচিতে থাকা প্রোটিন ও খাদ্য আঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে শিমের বিচি রাখা যেতে পারে।
৭. গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি জোগায়
শিমের বিচিতে থাকা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, খাদ্য আঁশ, ফোলেট ও বিভিন্ন খনিজ গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে ফোলেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কীভাবে খাবেন শিমের বিচি?
শিমের বিচি মাছ, মাংস, বেগুন কিংবা অন্যান্য সবজির সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়। আবার সেদ্ধ করেও বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা যায়। তবে ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাওয়া উচিত। এতে হজমের সমস্যা কমতে পারে এবং কাঁচা বা অপর্যাপ্ত রান্না করা বিচির সম্ভাব্য ক্ষতিকর উপাদানের ঝুঁকি এড়ানো যায়।


