...|...|...

লাইফস্টাইল

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত যে তিন ধরনের ব্যায়ামের পরামর্শ চিকিৎসকের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১:০৫
Shares
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত যে তিন ধরনের ব্যায়ামের পরামর্শ চিকিৎসকের

ছবি: সংগৃহীত

স্ট্রোক একটি গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা। এটি হঠাৎ করেই ঘটতে পারে এবং এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে স্ট্রোক প্রাণঘাতীও হতে পারে। তাই এই রোগের ঝুঁকি কমাতে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাঁটা, স্ট্রেংথ ট্রেনিং এবং যোগব্যায়াম-এই তিন ধরনের শরীরচর্চার মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সারজাপুর রোডের মণিপাল হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ডা. শিব কুমারের মতে, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে বয়স্কদের স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস এ ঝুঁকি দ্বিগুণ করতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে তিনি কয়েক ধরনের ব্যায়ামের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

হাঁটা

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে হাঁটাকে কার্যকর ও সহজ ব্যায়াম হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডা. শিব কুমার। তার মতে, হাঁটার জন্য বিশেষ কোনো সরঞ্জাম বা অর্থের প্রয়োজন হয় না। সপ্তাহে পাঁচ দিন প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে দ্রুতগতিতে হাঁটলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের মাঝারি মাত্রার শারীরিক পরিশ্রমের লক্ষ্য পূরণ হয়।

নিয়মিত হাঁটাচলা রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। ফলে হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির সুস্থতা বজায় রাখতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

স্ট্রেংথ ট্রেনিং

পেশি ও হাড়ের সক্ষমতা ধরে রাখতে স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। বিশেষ করে মেনোপজের পর নারীদের পেশি ও হাড়ের ক্ষয় দ্রুত হতে পারে। এ কারণে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন এ ধরনের ব্যায়াম করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডা. শিব কুমার।

তার পরামর্শ অনুযায়ী, ওজন বা রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড ব্যবহার করে শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করা যেতে পারে। এসব ব্যায়াম পেশি ও হাড়ের সুরক্ষায় সহায়তা করার পাশাপাশি ওজন এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।

যোগব্যায়াম

শরীরের নমনীয়তা বাড়ানো এবং মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম উপকারী হতে পারে। এ ধরনের ব্যায়ামে জয়েন্টের ওপর তুলনামূলক কম চাপ পড়ে। কিছু গবেষণায় যোগব্যায়ামের সাথে রক্তচাপ কিছুটা কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

তবে চিকিৎসকের মতে, যোগব্যায়াম হাঁটার বিকল্প নয়; বরং নিয়মিত হাঁটার পাশাপাশি এটি করা যেতে পারে।

ব্যায়ামের পাশাপাশি যেসব বিষয়ে সতর্কতা জরুরি

ডা. শিব কুমারের পরামর্শ হলো, সপ্তাহের অধিকাংশ দিন নিয়মিত হাঁটতে হবে। পাশাপাশি সপ্তাহে দুই দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং শরীর নমনীয় ও মন শান্ত রাখতে সকালে কিংবা ঘুমানোর আগে যোগব্যায়াম করা যেতে পারে।

তবে শুধু ব্যায়াম করলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না। এ জন্য নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো এবং তামাক ও ধূমপান পরিহার করা জরুরি। এ ছাড়া হৃদ্‌স্পন্দন অনিয়মিত হলে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।