...|...|...

লাইফস্টাইল

অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে যে ৫টি প্রত্যাশা থেকে দাম্পত্যে দূরত্ব বাড়ে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৫৯
Shares
অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে যে ৫টি প্রত্যাশা থেকে দাম্পত্যে দূরত্ব বাড়ে

ছবি: সংগৃহীত

পারিবারিক বা ঘটকালিভিত্তিক বিয়ের মাধ্যমে নতুন জীবনের সূচনা হয় অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে। দুই পরিবারের উচ্ছ্বাস আর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রায় নবদম্পতি প্রায়ই দেখতে পান যে, বৈবাহিক জীবন নিয়ে তাদের দুজনের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে বেশ বড় ফারাক রয়েছে।

পরিবারের দেখাশোনা থেকে শুরু করে আবেগীয় প্রয়োজন- বিভিন্ন বিষয়ে আগে থেকে খোলামেলা আলোচনা না হলে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝিগুলোই একসময় বড় ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পারিবারিক বিয়েতে সাধারণত যে পাঁচটি সাধারণ প্রত্যাশা দম্পতিদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়, তা তুলে ধরা হলো:

১. সব সময় একজনের ওপরই মানিয়ে নেওয়ার চাপ

বেশ কিছু দাম্পত্য সম্পর্কে দেখা যায়, সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে কোনো একজন সঙ্গীর ওপরই বেশি ছাড় দেওয়ার অদৃশ্য চাপ থাকে। নিজের প্রতিদিনের রুটিন বদলে ফেলা, ব্যক্তিগত পরিকল্পনা বাদ দেওয়া কিংবা নতুন পরিবারের রীতিনীতির সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নেওয়ার এই চাপ একসময় মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে অন্য সঙ্গী যখন নিজে কোনো ধরনের ছাড় দিতে বা মানিয়ে নিতে নারাজ থাকেন, তখন দূরত্ব আরও বাড়ে। একটি সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য উভয়েরই পারস্পরিক ছাড় দেওয়া এবং একে অপরের চাহিদাকে সম্মান করা জরুরি।

২. ‘সঙ্গী নিজে থেকেই সব বুঝে নেবে’-এমন অবাস্তব আশা

অনেকেই মনে করেন, নিজের মন খারাপের বিষয়টি বা কোনো বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন হলে তা সঙ্গী নিজে থেকেই বুঝতে পারবেন; এর জন্য আলাদা করে মুখ খুলে বলার কিছু নেই। কিন্তু মানুষমাত্রই আলাদা এবং তাদের আবেগ প্রকাশের ধরনও ভিন্ন। একজনের কাছে যা ভীষণ স্পষ্ট, অন্যজনের কাছে তা হয়তো মোটেও বোধগম্য নয়। তাই না বলে সঙ্গী নিজে থেকে সব বুঝে নেবেন-এমনটি আশা না করে মনের কথা ও প্রয়োজনগুলো নিয়ে খোলামেলা কথা বলা উচিত।

৩. জীবনের সব সিদ্ধান্ত বাবা-মায়ের হাতে ছেড়ে দেওয়া

পারিবারিক বিয়েতে পরিবারের একটা বড় সম্পৃক্ততা থাকা স্বাভাবিক হলেও জটিলতা তৈরি হয় তখনই, যখন স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের জীবনের সব সিদ্ধান্তও অন্যের ইচ্ছায় বা বাবা-মায়ের কথায় পরিচালিত হয়। কোথায় থাকবেন, কীভাবে অর্থ সঞ্চয় ও খরচ করবেন কিংবা ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা-এসব ব্যক্তিগত বিষয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই নিজস্ব মতামত থাকা উচিত। বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনই নিজেদের সংসার নিজেদের মতো করে গুছিয়ে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকাও সমানভাবে প্রয়োজন।

৪. সংসারের সব কাজ একা স্ত্রীর দায়িত্ব ভাবা

অনেক পরিবারে এখনো এমন মানসিকতা দেখা যায় যে, রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ঘর পরিষ্কার ও অন্যান্য গৃহস্থালির যাবতীয় কাজ কেবল স্ত্রীরই দায়িত্ব। এমনকি স্ত্রী যদি বাইরে ফুলটাইম চাকরি বা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবুও এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটে না। এর ফলে একজন সঙ্গী নিজেকে অতিরিক্ত চাপে জর্জরিত এবং অবমূল্যায়িত মনে করতে শুরু করেন। ঘরের কাজকে নির্দিষ্ট একজনের ঘাড়ে না চাপিয়ে দুজনে মিলে ভাগ করে নেওয়াটাই সম্পর্ক সুন্দর রাখার চাবিকাঠি।

৫. বিয়ের পরপরই গভীর ভালোবাসা ও রোমান্স আশা করা

বিয়ে মানেই যে প্রথম দিন থেকেই দুজন মানুষ একে অপরের সাথে পুরোপুরি মানিয়ে নেবেন এবং তীব্র ভালোবাসায় ভেসে যাবেন, বিষয়টি সবসময় এমন নয়। পারিবারিক বা ঘটকালি বিয়েতে একে অপরের অভ্যাস, ব্যক্তিত্ব এবং মনের ভাষা বুঝতে একটু সময় লাগাই স্বাভাবিক। বিয়ের ঠিক পরপরই অতিরিক্ত মাত্রায় ঘনিষ্ঠতা বা গভীর আবেগ আশা করাটা দুজনের জন্যই মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। ভালোবাসা রাতারাতি তৈরি হয় না; বরং পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং নিজের গতিতে একে অপরকে সময় দিয়ে সম্পর্ককে সুন্দর করে গড়ে তোলা উচিত।