ইসলামে একই সময়ে আপন দুই বোনকে বিয়ে করে দাম্পত্য জীবনযাপন করা নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, একজন পুরুষের সাথে দুই আপন বোন একই সময়ে স্ত্রী হিসেবে থাকতে পারবেন না।
বিয়ে ও পারিবারিক জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলাম নির্দিষ্ট কিছু বিধান দিয়েছে। এর মধ্যে কার সাথে বিয়ে বৈধ এবং কার সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ-তা কোরআন ও সুন্নাহতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আপন দুই বোনকে একই সময়ে বিয়ে করাও নিষিদ্ধ বিধানের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে যেসব নারীর সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ, তাদের তালিকায় দুই বোনকে একসাথে বিয়ে করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
وَ اَنۡ تَجۡمَعُوۡا بَیۡنَ الۡاُخۡتَیۡنِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا
‘আর দুই বোনকে একত্র (বিয়ে) করা (তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে)। তবে অতীতে যা হয়ে গেছে তা ভিন্ন কথা। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা নিসা : আয়াত ২৩)
আয়াতটির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, একজন পুরুষের পক্ষে একই সময়ে আপন দুই বোনকে স্ত্রী হিসেবে রাখা বৈধ নয়।
এ বিষয়ে হাদিসেও সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত একটি হাদিসে উম্মু হাবিবা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তার বোনকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জবাবে নবীজি (সা.) জানান, তার জন্য তা বৈধ নয়।
এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, আপন দুই বোনকে একই সময়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করা ইসলামে অনুমোদিত নয়।
এ ছাড়া সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, কোনো নারীকে তার ফুফু কিংবা খালার সাথে একই সময়ে বিয়ে করাও নিষিদ্ধ। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট কিছু নিকটাত্মীয় নারীকে একই সময়ে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ইসলাম বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ইবনে মাজাহতে বর্ণিত একটি হাদিসে ফাইরুজ আদ-দাইলামি (রা.)-এর ঘটনা পাওয়া যায়। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানান, তার বিবাহবন্ধনে দুই বোন রয়েছেন। তখন নবীজি (সা.) তাকে তাদের মধ্যে একজনকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, ইসলাম গ্রহণের আগে কোনো ব্যক্তির একসাথে দুই বোনের সাথে বিয়ে হয়ে থাকলেও ইসলাম গ্রহণের পর সেই অবস্থায় উভয়কে স্ত্রী হিসেবে রাখা যাবে না।
একজন বোন মারা গেলে অন্য বোনকে বিয়ে করা যাবে?
হ্যাঁ, একজন স্ত্রীর মৃত্যু হলে তার বোনকে বিয়ে করা মূলত বৈধ। একইভাবে প্রথম স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও শরিয়তের প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তার বোনকে বিয়ে করা যেতে পারে।
তবে তালাকের পর বিয়ের ক্ষেত্রে ইদ্দতসহ প্রাসঙ্গিক শরয়ি বিধান বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ইসলামের বিধান কী?
কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, একই সময়ে আপন দুই বোনকে বিয়ে করে সংসার করা হারাম। তবে একজন স্ত্রীর মৃত্যু বা বৈবাহিক সম্পর্কের অবসানের পর অন্য বোনকে বিয়ের বিষয়টি ভিন্ন; এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শরয়ি শর্ত মানতে হবে।
মুসলিমদের জন্য পারিবারিক জীবন গঠনে কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।


