নওগাঁয় প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করে সমালোচনার মুখে পড়া সেই যুবককে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রী। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে এ তথ্য জানান ওই যুবক। একই সাথে ঘটনার জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান তিনি।
ওই যুবক নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি পেশায় নওগাঁ আদালতের এক আইনজীবীর সহকারী। প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে বদলগাছী উপজেলা সদরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। গত ২৫ অক্টোবর প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করেন তিনি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা।
তখন ওই যুবক দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তিনি তার ছোট বোনকে বিয়ে করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বদলগাছীতে তাদের ভাড়া বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়। পরে এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে তারা সোমবার রাতে নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে মহাদেবপুর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে যান।
সেখানেও স্থানীয় লোকজন বিয়েটির বিরোধিতা করেন। একপর্যায়ে তাদের মারধর করে মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান ওই যুবক। একই সাথে দুই স্ত্রীর মধ্যে একজনকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে কাকে তালাক দেবেন, তা তখন স্পষ্ট করেননি।
বুধবার বিকেল ৫টার দিকে আবারও ফেসবুক লাইভে এসে তিনি জানান, দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশের একটি কপিও নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন তিনি।
লাইভে ওই যুবক বলেন, না বোঝার কারণে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এ ঘটনার জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চান। ভবিষ্যতে অন্য কেউ যেন তার মতো এমন সিদ্ধান্ত না নেন, সে আহ্বান জানান তিনি।
তালাকের নোটিশে স্বাক্ষরকারী কাজী সামিদুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুরে ওই নারী তার অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে সাথে নিয়ে তার কার্যালয়ে আসেন। নারী ও তার অভিভাবকদের সম্মতিতে তালাকের নোটিশ জারি করা হয়েছে।
নোটিশের একটি কপি স্বামীর কাছে এবং অন্যটি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তালাক কার্যকর হতে তিন মাস সময় লাগবে।
ওই যুবকের শ্বশুর জানান, বড় মেয়ের স্বামীকে ছোট মেয়ের বিয়ে করার বিষয়টি তিনি জানতেন। তার দাবি, বড় মেয়েরও এতে সম্মতি ছিল। বদলগাছীর ভাড়া বাসায় একজন মৌলভি ডেকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
তবে একসাথে দুই বোনকে বিয়ে করার বিষয়ে ধর্মীয় বিধানটি তারা জানতেন না বলে দাবি করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারটি নানা ধরনের হেনস্তার শিকার হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শ্বশুরের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক সালিসে ছোট মেয়ে স্বামীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।


