...|...|...

ধর্ম

বদনজর ও জাদুটোনা থেকে সুরক্ষায় যেসব আমল করবেন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:১৮
Shares
বদনজর ও জাদুটোনা থেকে সুরক্ষায় যেসব আমল করবেন

ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনে নানা ধরনের বিপদ-আপদ, রোগ-ব্যাধি ও ক্ষয়ক্ষতি আসতে পারে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এসব পরিস্থিতি মানুষের জন্য পরীক্ষার কারণ হতে পারে। তাই দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জনে মহান আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামে বদনজরকে সত্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসাথে জাদুটোনার মতো কাজ থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বদনজর বা জাদুর আশঙ্কায় আতঙ্কিত না হয়ে কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশিত দোয়া, জিকির ও আমল করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বদনজর সত্য, জাদু থেকে বিরত থাকার নির্দেশ
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বদনজর লাগা সত্য।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৭৯)

অন্যদিকে জাদুকে ইসলামে গুরুতর পাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। সাহাবিরা সেগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন- আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা, জাদু করা, শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং সতী-সাধ্বী মুমিন নারীদের অপবাদ দেওয়া। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫৭৮)

সকাল-সন্ধ্যায় যে দোয়া পড়ার কথা এসেছে হাদিসে
বদনজর ও অন্যান্য অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে সকাল-সন্ধ্যায় একটি দোয়া তিনবার পড়ার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। উসমান ইবন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পড়বে, কোনো কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না।

দোয়াটি হলো:

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি, ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।

অর্থ: আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে থাকলে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

(সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৮৮)

কোথাও অবস্থান করলে যে দোয়া পড়বেন
কোনো স্থানে অবস্থান করার সময় অনিষ্ট থেকে বাঁচতে আরেকটি দোয়া পড়ার কথা হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবতরণ করে এই দোয়া পড়বে, সেখান থেকে রওনা হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না।

দোয়াটি হলো:

উচ্চারণ: আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।

অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের মাধ্যমে তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

(সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৩৭)

বদনজর ও অসুস্থতায় রুকইয়াহর দোয়া
ইসলামে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করার পদ্ধতিকে রুকইয়াহ বলা হয়। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, একবার জিবরাইল (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে তাঁর অসুস্থতার বিষয়ে জানতে চান। এরপর তিনি তাঁকে একটি দোয়ার মাধ্যমে রুকইয়াহ করেন।

দোয়াটি হলো:

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরক্বিকা মিন কুল্লি শাইয়িন ইউজিকা, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা, বিসমিল্লাহি আরক্বিকা।

অর্থ: আল্লাহর নামে আপনাকে রুকইয়াহ করছি- যে জিনিস আপনাকে কষ্ট দেয়, প্রত্যেক প্রাণের অনিষ্ট এবং হিংসুকের বদনজর থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নামে আপনাকে রুকইয়াহ করছি।

(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১৮৬)

কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী যেসব আমল করা যায়
বদনজর ও অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার জন্য নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে যেসব আমল করা যেতে পারে-

  • সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস: সকাল-সন্ধ্যায় এবং ঘুমানোর আগে এসব সূরা পাঠ করা। ঘুমানোর আগে তিনটি সূরা পড়ে দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে শরীরে হাত বুলানোর আমলও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
  • আয়াতুল কুরসি: আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে এটি পড়ার ফজিলত সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।
  • সূরা ফাতিহা: সূরা ফাতিহা পড়ে রুকইয়াহ করার অনুমোদন হাদিসে রয়েছে।
  • সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত: রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা।
  • সকাল-সন্ধ্যার জিকির: রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত দোয়া ও জিকির নিয়মিত পাঠ করা।
  • আজওয়া খেজুর: সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাওয়ার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে বর্ণনা রয়েছে।
  • তাকওয়া অবলম্বন: আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা, পাপ থেকে বিরত থাকা এবং ঈমান-আমল দৃঢ় রাখার চেষ্টা করা।

চিকিৎসা ও ধর্মীয় আমল-দুটিই গুরুত্বপূর্ণ
বদনজর বা জাদুটোনার আশঙ্কা হলে ভয় ও কুসংস্কারে না জড়িয়ে কোরআন-সুন্নাহসম্মত দোয়া ও রুকইয়াহর আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। প্রতারণামূলক, শিরকপূর্ণ কিংবা ক্ষতিকর পদ্ধতি থেকে দূরে থাকা জরুরি।

পাশাপাশি শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কোনো অসুস্থতাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই জাদু বা বদনজরের ফল বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ধর্মীয় আমলের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণও সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।