...|...|...

লাইফস্টাইল

মাথাব্যথার আড়ালে থাকতে পারে চোখের যে ৪ সমস্যা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:২১
Shares
মাথাব্যথার আড়ালে থাকতে পারে চোখের যে ৪ সমস্যা

ছবি: সংগৃহীত

মাথাব্যথা হলেই অনেকে ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ কিংবা অতিরিক্ত কাজের ক্লান্তিকে দায়ী করেন। সাময়িক সমস্যা ভেবে ব্যথানাশক ওষুধ খেয়েই স্বস্তি খোঁজেন। তবে বারবার মাথাব্যথা হওয়া শুধু স্নায়বিক সমস্যা নয়, চোখের বিভিন্ন জটিলতারও লক্ষণ হতে পারে। দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি, চোখের পেশির দুর্বলতা কিংবা চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণেও মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের মাথাব্যথাকে অবহেলা না করে চোখ পরীক্ষা করানো জরুরি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। বিএলকে-ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চক্ষুবিদ্যা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর ও বিভাগীয় প্রধান ডা. বিবেক গর্গ জানিয়েছেন, মাথাব্যথাকে অনেকেই স্নায়বিক সমস্যা বলে মনে করেন। অথচ এর পেছনে চোখের সমস্যাও থাকতে পারে।

ডা. বিবেক গর্গ বলেন, ক্লিনিক্যাল অনুশীলনে প্রায়ই এমন রোগী দেখা যায়, যারা দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথার জন্য মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেছেন। কেউ মস্তিষ্কের স্ক্যান করিয়েছেন, আবার কেউ স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেছে, তাদের সমস্যার মূল কারণ ছিল চোখে।

চোখের সমস্যায় কেন মাথাব্যথা হয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ার সাথে মস্তিষ্কের স্নায়ু ও বিভিন্ন পেশি সরাসরি যুক্ত। দীর্ঘক্ষণ কোনো কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকা কিংবা দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি থাকা অবস্থায় কাজ করলে চোখকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। বিশেষ করে কোনো বস্তুর ওপর দৃষ্টি স্থির রাখতে চোখের পেশিগুলোকে দীর্ঘসময় সংকুচিত থাকতে হয়।

এর ফলে চোখের আশপাশের পেশিতে চাপ তৈরি হয়। সেই চাপ ছড়িয়ে পড়তে পারে কপাল, কানের পাশের অংশ ও ঘাড়ে। একপর্যায়ে তা টেনশনজনিত মাথাব্যথার মতো অনুভূত হতে পারে। এ কারণে চোখের সমস্যা থাকলেও অনেক সময় ব্যথা শুধু চোখে সীমাবদ্ধ থাকে না।

চোখের যেসব সমস্যায় মাথাব্যথা হতে পারে

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. বিবেক গর্গের মতে, চোখের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-

১. দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি

চোখের পাওয়ারে সমস্যা থাকলেও মাথাব্যথা হতে পারে। অ্যাস্টিগমাটিজম, হাইপারোপিয়া বা দূরদৃষ্টি এবং বয়সজনিত প্রেসবায়োপিয়ার মতো সমস্যায় চোখের ভেতরের সিলিয়ারি পেশিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। দীর্ঘসময় এভাবে কাজ করার ফলে চোখের চারপাশে চাপ ও মৃদু ব্যথা তৈরি হতে পারে।

২. চোখের পেশির সমন্বয়হীনতা

পড়াশোনা কিংবা কম্পিউটারে কাজ করার সময় দুই চোখকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। কিন্তু চোখের পেশিগুলো ঠিকভাবে সমন্বয় করতে না পারলে মস্তিষ্ককে দুটি চোখের ছবি একত্র করতে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। এতে চোখের পেছনে ব্যথা বা স্পন্দনের মতো অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

৩. দীর্ঘক্ষণ ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার

স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও ল্যাপটপের পর্দায় দীর্ঘসময় তাকিয়ে থাকলে চোখের স্বাভাবিক পলক ফেলার হার কমে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় একজন মানুষ প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫ থেকে ২০ বার চোখের পলক ফেলেন। কিন্তু ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সময় তা কমে ৫ থেকে ৭ বারে নেমে আসতে পারে।

এর ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যায় এবং আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘসময় একই দূরত্বে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখে চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে দিনের শেষ দিকে এ ধরনের চাপ থেকে মাথাব্যথা হতে পারে।

৪. গ্লুকোমা

চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে গেলেও মাথাব্যথা হতে পারে। গ্লুকোমার ক্ষেত্রে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ হঠাৎ বেড়ে গেলে চোখের কোটর ও আশপাশে তীব্র ব্যথা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এর সাথে বমি ভাব এবং আলোর উৎসের চারপাশে রঙিন বলয় দেখার মতো লক্ষণও দেখা যায়।

মাথাব্যথা চোখের সমস্যার কারণে হচ্ছে কি না বুঝবেন যেভাবে

মাথাব্যথার ধরন ও এর সাথে দেখা দেওয়া অন্যান্য উপসর্গ থেকে চোখের সমস্যার বিষয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি লক্ষণ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
- দুপুরের দিকে কিংবা দীর্ঘসময় পড়াশোনা করার পর মাথাব্যথা শুরু হওয়া।
- ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া।
- চোখের চারপাশে, পেছনে কিংবা দুই চোখের মাঝখানে ব্যথা অনুভূত হওয়া।
- কম আলোতে বিশ্রাম নিলে প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে অস্বস্তি কমে আসা।
- চোখে ঝাপসা দেখা, দ্বৈত দৃষ্টি, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া কিংবা চোখে জ্বালাপোড়া অনুভূত হওয়া।
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে শুধু মাথাব্যথার ওষুধের ওপর নির্ভর না করে চোখের পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

বারবার ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া কি ঠিক?

বিশেষজ্ঞরা ঘন ঘন ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, এসব ওষুধ সাময়িকভাবে ব্যথা কমালেও চোখের সমস্যার মূল কারণ দূর করতে পারে না। দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি কিংবা চোখের পেশির কার্যগত সমস্যা থাকলে তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাই নিয়মিত বা দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি চোখ পরীক্ষা করানো জরুরি। বিশেষ করে চোখে তীব্র ব্যথা, হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, বমি ভাব বা আলোর চারপাশে রঙিন বলয় দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।