আমাদের স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংসে দুটি ভোকাল কর্ড থাকে, যার কম্পনের মাধ্যমে আমরা কথা বলে থাকি। ল্যারিংস বা ভোকাল কর্ড আক্রান্ত হলে গলাব্যথা, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কণ্ঠনালিতে জন্মগত সমস্যা ছাড়াও প্রদাহ, পলিপ, টিউমার বা ক্যানসারের মতো জটিলতা হতে পারে। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকার ইএনটি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
কণ্ঠনালির ক্যানসারের কারণ
কণ্ঠনালির ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ধূমপান। এ ছাড়া মদ্যপান, জর্দা, সাদাপাতা সেবন, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া এবং কণ্ঠনালির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণেও এই ক্যানসার হতে পারে।
প্রধান উপসর্গসমূহ
- কণ্ঠস্বরের আকস্মিক পরিবর্তন যা ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয় এবং ভালো হতে চায় না।
- শ্বাসকষ্ট হওয়া।
- গলায় কিছু আটকে রয়েছে এমন অনুভূতি হওয়া।
- ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া।
- গলা বা গলার গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া।
- কান ব্যথা হওয়া, কারণ একই নার্ভ কান ও কণ্ঠনালির সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ শনাক্ত করা গেলে প্রায় সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব, তবে দেরি হলে সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কারো গলার স্বর দুই সপ্তাহের বেশি পরিবর্তিত বা ভাঙা থাকলে কিংবা তা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে অবশ্যই নাক, কান ও গলা (ইএনটি) চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ফাইবার অপটিক ভিডিও ল্যারেংগসকপি এবং হিস্টোপ্যাথলজির মাধ্যমে সহজে এই ক্যানসার শনাক্ত করা যায়।
রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি ও অপারেশনের মাধ্যমে কণ্ঠনালির ক্যানসারের চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সাধারণত রেডিওথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়, তবে রোগ শেষ পর্যায়ে চলে গেলে অপারেশন করতে হয়। অপারেশনের পর কথা বলার জন্য কৃত্রিম স্বরযন্ত্র সংযোজন কিংবা খাদ্যনালির মাধ্যমে কথা বলার বিশেষ ব্যায়ামের ব্যবস্থা নিতে হয়।


