...|...|...

লাইফস্টাইল

খাবারে বিষক্রিয়া এড়াতে যেসব সতর্কতা জরুরি

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৬
Shares
খাবারে বিষক্রিয়া এড়াতে যেসব সতর্কতা জরুরি

ছবি: সংগৃহীত

বাইরে ঘুরতে যাওয়া, পিকনিক কিংবা বারবিকিউ আয়োজনের সময় খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে রান্না করা মাংস, বার্গার, আলুর সালাদসহ পচনশীল খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে পড়ে থাকলে সেগুলো থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও জরুরি চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লিয়ানা ওয়েন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ খাদ্যবাহিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হন।

এসব অসুস্থতার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এমনকি এসব অসুস্থতায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের খাদ্যবাহিত অসুস্থতায় গুরুতর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

মাংস রান্নায় তাপমাত্রা

বারবিকিউ বা বাইরে মাংস রান্নার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কম সিদ্ধ মাংসে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। তাই মাংস পুরোপুরি সিদ্ধ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা মাপার থার্মোমিটার ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক লিয়ানা ওয়েন।

তার মতে, মুরগির মাংসের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অন্তত ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং গরুর মাংসের কিমা অন্তত ১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট হওয়া প্রয়োজন।

রান্না শেষ হওয়ার পর পরিবেশনের আগপর্যন্ত মাংসের তাপমাত্রা ১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি রাখতে হবে। এতে ক্ষতিকর জীবাণুর বংশবিস্তার ঠেকানো সম্ভব।

অন্যদিকে, কাঁচা মাংস রান্নার আগে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বাইরে ফেলে না রেখে ফ্রিজে রাখতে হবে। গ্রিলে দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে সেটি বের করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণ আবহাওয়ায় পচনশীল খাবার সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা ফ্রিজের বাইরে রাখা যায়। তবে তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে এই সময় কমিয়ে এক ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে হবে।

এই নিয়ম রান্না করা বার্গার, আলুর সালাদ ও বাঁধাকপির সালাদের মতো খাবারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। প্রচণ্ড গরমে এসব খাবার দ্রুত খেয়ে ফেলতে হবে। অন্যথায় এক ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে।

পার্ক কিংবা এমন কোনো স্থানে বারবিকিউ আয়োজন করা হলে, যেখানে ফ্রিজের ব্যবস্থা নেই, সেখানে বরফসহ ভালো মানের তাপ নিরোধক কুলার ব্যবহার করা যেতে পারে। রান্নার আগপর্যন্ত কাঁচা মাংস ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার নিচের তাপমাত্রায় রাখতে হবে।

এ ছাড়া কাঁচা মাংস ভালোভাবে বন্ধ করা ব্যাগে রাখতে হবে, যাতে তা ফলমূল ও সবজির মতো কাঁচা খাওয়ার খাবারের সংস্পর্শে না আসে।

কাঁচা মাংসের জন্য আলাদা বাসন

কাঁচা মাংস কাটার বা রাখার কাজে ব্যবহৃত প্লেট, ছুরি ও অন্যান্য বাসন রান্না করা খাবারের বাসন থেকে আলাদা রাখতে হবে। বিশেষ করে সালাদ, ফলমূল, পাউরুটি ও অন্যান্য খাবারের সঙ্গে কাঁচা মাংসের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

কাঁচা মাংস ধরার পর প্রতিবার সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক ওয়েন। কারণ, কাঁচা মাংস হাতে নিয়ে সরাসরি সালাদ তৈরি করলে খাবারে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দুধ ও ডিম খাওয়ায় সতর্কতা

বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবের প্রসঙ্গ টেনে চিকিৎসক ওয়েন বলেন, যথাযথ তাপমাত্রায় রান্না করা হলে মাংস ও ডিম খাওয়া নিরাপদ। দুধ পানেও সমস্যা নেই। তবে দুধ অবশ্যই পাস্তুরিত হতে হবে।

কাঁচা দুধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এমনকি এর মাধ্যমে বার্ড ফ্লু ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে। তাই কাঁচা দুধ পান কিংবা তা দিয়ে তৈরি খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।