স্বামীর পরিবারের দাবি ছিল, গৃহবধূ রোমেনা খাতুনের (৩৫) মৃত্যু হয়েছে স্বাভাবিকভাবে। সেই বিশ্বাসে চলছিল দাফনের প্রস্তুতিও। কিন্তু গোসল করাতে গিয়ে মেয়ের শরীরে মারধরের এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনেরা। এতে সন্দেহ হলে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তার স্বামী আব্দুর রহিম (৪৫)। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে নিজ বাড়ি থেকে আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করা হয়।
নিহত রোমেনা খাতুন একই ইউনিয়নের কাশিনাথপুর গ্রামের মরহম আলীর মেয়ে। তার স্বামী আব্দুর রহিম চরপাড়া গ্রামের রইজ মোল্লার ছেলে।
নিহতের বাবা মরহম আলী জানান, সোমবার মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি জামাইয়ের বাড়িতে যান। সেখানে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা তাকে জানান, রোমেনার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তারা দাফনের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু গোসলের সময় মেয়ের শরীরে মারধরের এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তিনি। এতে সন্দেহ হলে থানা পুলিশকে খবর দেন।
রোমেনা খাতুনের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে উল্লেখ করে মরহম আলী বলেন, আমার নাতিদের এখন কী হবে? আমি মেয়ের হত্যার বিচার ও হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ আগে আব্দুর রহিম সৌদি আরবে যান। সেখানে ছয় বছর থাকার পর বর্তমানে মালয়েশিয়ায় থাকেন তিনি। প্রায় দুই মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন। প্রবাসে থাকাকালে উপার্জিত টাকা স্ত্রী বাবার বাড়িতে পাঠান-এমন অভিযোগ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে আব্দুর রহিম জানান, প্রবাসে থাকাকালে তার আয়ের বেশির ভাগ টাকা স্ত্রী বাবার বাড়িতে পাঠাতেন। সোমবার তাকে না জানিয়ে গচ্ছিত ১৩ হাজার টাকা আবারও বাবার বাড়িতে পাঠান রোমেনা। এ নিয়ে জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীর গলা টিপে ধরেন। এতে তার মৃত্যু হয়। তবে গলা টিপে ধরলে মৃত্যু হতে পারে, এ কথা জানতেন না বলে দাবি করেন রহিম।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হলে স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি হত্যার কথা স্বীকার করলে তাকে আটক করা হয়।
ওসি আরও জানান, মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।


