খুলনার দিঘলিয়ায় মুড়ির প্যাকেটে রাখা বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) নামে এক জামায়াত নেতা আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে তার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত মনিরুল ইসলাম সেনহাটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসাশিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজ আদায় করে বাড়িতে ফেরার পর বসতঘরের দরজার সামনে পলিথিনের একটি প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান মনিরুল। কেউ ভুল করে প্যাকেটটি রেখে গেছে মনে করে সেটি ঘরের ভেতরে নিয়ে যান তিনি। কিছুক্ষণ পর প্যাকেটটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। বিস্ফোরণের পর ঘরের আসবাবপত্রেও আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনার পর মনিরুলের পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তার ছোট ভাই এম এম রকিব উদ্দিন একই ওয়ার্ডে জামায়াত মনোনীত ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী। দিঘলিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুশফিকুর রহমানের দাবি, রকিব উদ্দিনকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বিস্ফোরকটি রাখা হয়ে থাকতে পারে। এমনকি ভুল করে তার ভাইয়ের বাড়ির সামনে প্যাকেটটি রেখে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে এ দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরূপ কুমার চৌধুরী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
মুড়ির প্যাকেটে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু কারা রেখেছিল এবং এর পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


