২০০০ সালের দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদার সময় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা ফিলিস্তিনি শিশু মুহাম্মদ আল-দুররার ছবি এবার মিশরের স্কুল পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার ২৫ বছর পর ছবিটি মিশরের ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে স্থান পেল।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মিডল ইস্ট মনিটর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন পাঠ্যক্রমে ‘দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদা ২০০০’ শিরোনামের একটি অধ্যায়ে ছবিটি যুক্ত করা হয়েছে। ছবির নিচে সরাসরি ক্যাপশন হিসেবে লেখা রয়েছে—‘যে মুহূর্তে মুহাম্মদ আল-দুররাকে গুলি করা হয়েছিল’।
২০০০ সালের দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময় তোলা ওই ছবি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পাঠ্যবইয়ে ছবিটিকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি, বরং ফিলিস্তিনি সংকটের ধারাবাহিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
পাঠ্যক্রমে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা, সংঘাত, শান্তি প্রচেষ্টা এবং পরবর্তী সময়ে গাজা উপত্যকার পরিস্থিতির ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ আল-দুররার ছবিকে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার মানবিক দিকের প্রতীক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মুহাম্মদ আল-দুররার বাবা জামাল আল-দুরা বলেন, পাঠ্যবইয়ে তার ছেলের ছবি যুক্ত হওয়ার গুরুত্ব শুধু একটি নাম বা ছবি পরিচিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেবে যে ইতিহাসের পেছনে বাস্তব মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও সাধারণ মানুষের জীবন-অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার ছেলের গল্প শিক্ষার্থীদের ফিলিস্তিন সংকটকে শুধু রাজনৈতিক ঘটনা বা তারিখ হিসেবে নয়, বরং মানুষের দুর্ভোগ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝতে সহায়তা করবে।
২০০০ সালের সেই ছবি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি সংকটের অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এবার মিশরের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ইতিহাস শিক্ষার অংশ হলো মুহাম্মদ আল-দুররার সেই স্মরণীয় মুহূর্ত।


