...|...|...

লাইফস্টাইল

দুপুরের খাবারের পর ক্লান্তি কমাতে যা খেতে পারেন

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:০৭
Shares
দুপুরের খাবারের পর ক্লান্তি কমাতে যা খেতে পারেন

সকাল থেকে বেশ চাঙা। একের পর এক কাজ করেও ক্লান্তি যেন নেই। কিন্তু দুপুরের খাবার খাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। চোখে ঘুম ঘুম ভাব, শরীরে আলস্য, কাজে মন বসছে না- দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেই যেন সমস্ত এনার্জি ফুরিয়ে আসে। নিজেকে সচল রাখতে তখন অনেকেই চা কিংবা কফির কাপে ভরসা করেন।

আপনারও কি প্রায় প্রতিদিন একই সময়ে এমন হয়? অনেকেই মনে করেন, কম ঘুম কিংবা সারাদিনের ব্যস্ততার কারণেই বিকেলে শরীর নিস্তেজ লাগে। তবে এর পেছনে খাবার হজম ও শরীরে পুষ্টি শোষণের বিষয়টিও ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু কী খাচ্ছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়, খাবার থেকে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি কতটা গ্রহণ করতে পারছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তাই শুধু কী খাচ্ছেন, সেটিই নয়, কখন খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন এবং দিনের বাকি সময়টা কীভাবে কাটাচ্ছেন-সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

খেজুরের সাথে ঘি

হঠাৎ দুর্বল বা ক্লান্ত লাগলে অনেকে খেজুরের সাথে সামান্য ঘি খেয়ে থাকেন। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। অন্যদিকে ঘিতে থাকা চর্বি খাবারের সাথে গ্রহণ করা শক্তির উৎসকে তুলনামূলক ধীরে গ্রহণে সহায়তা করতে পারে।

তবে এটি সবার জন্য একইভাবে উপকারী হবে, এমন নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা থাকলে নিয়মিত খেজুর-ঘি খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

জাফরান দুধ

ক্লান্তি কাটাতে অনেকেই জাফরান মেশানো দুধ পান করেন। এক থেকে দুটি জাফরানের রেণু অল্প পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরে দুধের সাথে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।

তবে জাফরান দুধকে ক্লান্তি দূর করার নিশ্চিত উপায় হিসেবে না দেখে খাদ্যতালিকার একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করাই ভালো। দিনের সামগ্রিক খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পর্যাপ্ত ঘুম-সবকিছুর দিকেই নজর রাখা জরুরি।

রাতের খাবারের সময় ঠিক করুন

বিকেলের ঝিমুনির সাথে রাতের ঘুমেরও সম্পর্ক থাকতে পারে। অনেকেই রাতে দেরি করে খাবার খান এবং খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে চলে যান। ভারী খাবার বা ঘুমের কাছাকাছি সময়ে খাওয়া কিছু মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ফলে পরদিন শরীরে ক্লান্তি ও ঘুমঘুম ভাব থাকতে পারে।

তাই সম্ভব হলে ঘুমাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার অভ্যাস করুন। একই সাথে প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমানো ও জাগার চেষ্টা করাও ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে।

দুপুরের খাবার খুব ভারী করবেন না

দুপুরে একসাথে অনেক বেশি খাবার খেলে খাবারের পর ঝিমুনি আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। তাই দুপুরের খাবারে পরিমাণের পাশাপাশি খাবারের ভারসাম্যের দিকেও নজর দিন। নিয়মিত খাবার ও স্বাস্থ্যকর ছোট খাবারের অভ্যাস দিনের শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। শরীরে পানির ঘাটতি হলে তৃষ্ণা, মাথা ঘোরা ও ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শুধু হজমের সমস্যা নয়

নিয়মিত অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঝিমুনির কারণ শুধু হজমের সমস্যা নয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, পানিশূন্যতা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি রক্তস্বল্পতা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা ঘুমের কিছু সমস্যার কারণেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি হতে পারে।

তাই কয়েক সপ্তাহ ধরে একই সমস্যা চলতে থাকলে বা ক্লান্তির কারণে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে শুধু চা-কফির ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক উপসর্গের কারণ বুঝতে রক্ত পরীক্ষা বা অন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে পারেন।