বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের প্রতি ভালোবাসা থেকে ভক্তরা কত কিছুই না করেন! তবে প্রিয় তারকার সাথে দেখা করতে গিয়ে স্কুলের পরীক্ষা ফাঁকি দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে দক্ষিণী অভিনেত্রী কীর্তি সুরেশের জীবনে। একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে পরীক্ষা না দিয়েই শাহরুখের সিনেমার শুটিং সেটে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই মজার স্মৃতির কথা নিজেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
বর্তমানে নেটফ্লিক্সের ওয়েব সিরিজ ‘আক্কা’র প্রচার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কীর্তি। সিরিজটির প্রচারের অংশ হিসেবে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উঠে আসে স্কুলজীবনে শাহরুখ খানের সাথে তার প্রথম সাক্ষাতের গল্প। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বেশ নস্টালজিক হয়ে পড়েন অভিনেত্রী।
শাহরুখের সাথে প্রথম দেখা হওয়ার প্রসঙ্গে কীর্তি প্রথমে অ্যাটলির জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেন। তবে পরে তার মনে পড়ে আরও পুরোনো একটি ঘটনা। একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় এক বন্ধুকে নিয়ে পরীক্ষা ফাঁকি দিয়ে সরাসরি চলে গিয়েছিলেন শাহরুখের শুটিং সেটে।
এর পেছনে অবশ্য একটি পারিবারিক যোগসূত্রও ছিল। কীর্তির বড় বোন শাহরুখ খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের সাথে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি পরিচালক প্রিয়দর্শনের সহকারী হিসেবেও প্রায় সাত-আট বছর কাজ করেছেন তিনি। সেই সূত্রেই ‘বিল্লু’ সিনেমার শুটিং সেটে যাওয়ার সুযোগ পান কীর্তি।
সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, ‘একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই প্রথম শাহরুখ খানের সাথে দেখা হয়েছিল। আমার দিদি প্রিয়দর্শন স্যারের সহকারী হিসেবে প্রায় সাত-আট বছর কাজ করেছিলেন।
সেই সময় ‘বিল্লু’ সিনেমার শুটিং চলছিল। আমি আর আমার এক বন্ধু পরীক্ষা ফাঁকি দিয়ে শাহরুখের সাথে দেখা করতে সেটে চলে গিয়েছিলাম।’
সেই প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি আজও যত্ন করে আগলে রেখেছেন কীর্তি। এমনকি শাহরুখের সাথে তোলা একটি ছবিও সংরক্ষণ করে রেখেছেন তিনি। তবে ছবিতে নিজের সাজপোশাক নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট নন অভিনেত্রী। তাই ছবিটি প্রকাশ্যে আনতেও কিছুটা অনীহা রয়েছে তার।
এ প্রসঙ্গে কীর্তি বলেন, ‘ছবিটা আমার কাছে আছে, কিন্তু সেখানে আমাকে দেখতে খুব একটা ভালো লাগছে না। তাই আবার দেখাতে চাই না। পুরোনো সালোয়ার পরেছিলাম, কপালে ছিল বড় টিপ। তবে সেই দিনগুলো সত্যিই সুন্দর ছিল।’
শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও কীর্তির বাবা মালয়ালম চলচ্চিত্রের প্রযোজক জি সুরেশ কুমার চাইতেন, অভিনয়ে আসার আগে মেয়ে পড়াশোনা শেষ করুক এবং স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করুক। তবে প্রিয় তারকা শাহরুখ খানের সাথে দেখা করার সুযোগ পেয়ে সেই সময় আর পড়াশোনায় মন বসেনি কীর্তির। একাদশ শ্রেণির সেই দুষ্টুমিভরা স্মৃতিই আজও তার জীবনের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত হয়ে আছে।


