...|...|...

লাইফস্টাইল

মীনা দিবস আজ: যে গল্পে বদলে গেছে মেয়েদের স্বপ্ন

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৪৩
Shares
মীনা দিবস আজ: যে গল্পে বদলে গেছে মেয়েদের স্বপ্ন

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর। প্রতি বছর এই দিনে পালিত হয়  মীনা দিবস । দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে শিশু অধিকার, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক সচেতনতার প্রসার ঘটানোর জন্য এই দিবস পালন করা হয়।মীনা দিবস সর্বপ্রথম পালনা করা হয় ১৯৯৮ সালে। শিশু অধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কন্যাশিশুর বিশেষ সুরক্ষা ও মূল্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এই দিবসের উদ্দেশ্য।

মীনা হলো ৯ বছর বয়সী এক প্রাণবন্ত ও বুদ্ধিমতী কাল্পনিক মেয়ে। এটি সৃষ্টি করেছেন নির্মাতা নিল ম্যাককি এবং কিংবদন্তী ভারতীয় অ্যানিমেটর রাম মোহন। সহায়তা করে ইউনিসেফ । মীনার প্রধান সঙ্গী হল তার ছোট ভাই রাজু এবং তার বিশ্বস্ত পোষা তোতাপাখি মিঠু । বাল্যবিবাহ মোকাবিলা, শিশুশ্রম বন্ধ করা, মেয়েদের শিক্ষার প্রসার, যথাযথ স্যানিটেশনের পক্ষে কথা বলা এবং সকলের জন্য সমান স্বাস্থ্য সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয় এই দিবসে প্রচার করা হয়।

সরকার, এনজিও এবং স্কুলগুলো র‍্যালি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক ও পুতুলনাচের আয়োজন করে থাকে। অ্যানিমেটেড সিরিজের বিশেষ পর্বগুলো টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোতে সম্প্রচার করা হয় এবং শিশুমনকে শিক্ষিত করার জন্য মুদ্রিত কমিকস ব্যাপকভাবে বিতরণ করা হয়।

১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়কালটি ছিল কন্যাশিশু দশক। ইউনিসেফ দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে মেয়েদের, তাদের পরিবার এবং সম্প্রদায়কে বিনোদন ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য একটি অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র সিরিজ তৈরি করে এই দশকটি উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়। মীনা এই সিরিজের নায়িকা।

মীনার জন্য নিখুঁত চেহারা ও নাম খুঁজে বের করতে ব্যাপক গবেষণা করা হয়েছিল। চারটি ভিন্ন দেশের শিল্পীরা কয়েক ডজন ভিন্ন ভিন্ন দক্ষিণ এশীয় মেয়ের ছবি এঁকেছিলেন, এবং অবশেষে আজকের পরিচিত মীনা নামটি চূড়ান্ত করেন। প্রাথমিক চলচ্চিত্রগুলো তৈরির সময়, ইউনিসেফ দশ হাজারেরও বেশি শিশুর সাথে কথা বলেছিল মীনার কী পোশাক পরা উচিত এবং তার জীবনটা কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে। “মীনা” নামটি দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে প্রচলিত। মীনা ৯ বছর বয়সী এক প্রাণবন্ত মেয়ে, যে সব প্রতিকূলতা সাহসের সাথে মোকাবিলা করে – তা সে স্কুলে যাওয়ার চেষ্টাই হোক বা শিশুদের প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই।

শিশুদের প্রভাবিত করে এমন প্রধান সমস্যাগুলো তুলে ধরার কারণে মীনা চরিত্রটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গল্পগুলো মীনা, তার ভাই রাজু, তার পোষা তোতাপাখি মিঠু এবং তার পরিবার ও সম্প্রদায়ের সদস্যদের দুঃসাহসিক অভিযানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।

১৯৯৩ সালে জাতীয় টেলিভিশনে মীনার স্কুলে যাওয়ার সংগ্রাম নিয়ে 'কাউন্ট ইওর চিকেনস' নামের একটি চলচ্চিত্র সম্প্রচারিত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে তাকে পরিচিতি দেয়। তারপর থেকে মীনা টেলিভিশনের জন্য নির্মিত ২৬টি চলচ্চিত্রে, সেইসাথে রেডিও অনুষ্ঠান, কমিকস এবং বইয়ে অভিনয় করেছে। প্রতি বছর ইউনিসেফ মীনার নতুন নতুন গল্প প্রকাশ করে, যা ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং ভুটানে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েই পড়ে ও দেখে। মীনার পর্বগুলো স্থানীয় ভাষায় ডাব করে লাওস, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামের টিভিতেও দেখানো হয়েছে।

শিশুরা কী ধরনের গল্প শুনতে চায় তা জানতে ইউনিসেফ তাদের সাথে কথা বলা অব্যাহত রেখেছে এবং এই গেমটি তাদের প্রত্যাশা পূরণের দিকে আরও একটি পদক্ষেপ। লিঙ্গ, শিশু অধিকার, শিক্ষা, সুরক্ষা ও উন্নয়ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদানের একটি মাধ্যম হিসেবে মীনাকে ব্যবহার করা হয়। মীনার গল্পগুলোতে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে সমান অধিকার, ভালোবাসা, যত্ন ও সম্মান অর্জনকারী একটি মেয়ের অনেক ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এর সৃজনশীল ও আকর্ষণীয় কাহিনিগুলো সামাজিক বিষয়গুলোকে এক আবেদনময় ও উদ্দীপক উপায়ে তুলে ধরেছে।

মূল বিষয়বস্তুগুলো পাঁচটি ভাষায় রয়েছে – ইংরেজি, বাংলা, হিন্দি, নেপালি এবং উর্দু। এগুলোকে দক্ষিণ এশিয়ার আরও অনেক ভাষার পাশাপাশি ইউরোপীয় ভাষাতেও অনুবাদ বা ডাব করা হয়েছে।

মীনা কমিউনিকেশন প্যাকেজটিতে রয়েছে:

কমিক বই অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র পোস্টার আলোচনা এবং শিক্ষকদের নির্দেশিকা রেডিও সিরিজ (বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সহযোগিতায় নির্মিত) 


মীনা দিবসের তাৎপর্য হলো

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ: সমাজে বাল্যবিবাহের মতো ক্ষতিকর প্রথা বন্ধ করার বার্তা ছড়ায়।

মেয়েদের শিক্ষার প্রসার: কন্যাশিশুদের স্কুলে পাঠানো এবং শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্ব বোঝায়।

লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ: ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ভেদাভেদ না করে সমান সুযোগ দেওয়ার তাগিদ দেয়।

স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সচেতনতা: পরিবারে শিশুদের সুষম খাদ্য এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের বিষয়ে সচেতন করে।

শিশু নিরাপত্তা: শিশুদের অধিকার রক্ষা ও নির্যাতন রোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করে।