চুল পড়া নিয়ে একসময় বয়স বাড়ার পরই বেশি দুশ্চিন্তা করতেন মানুষ। কিন্তু এখন ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত চুল ঝরা কিংবা চুলের ডগা ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন অনেক তরুণ-তরুণী। বিশেষ করে জেন-জির মধ্যে চুলের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর পেছনে শুধু বংশগত কারণ নয়, জীবনযাপন ও চুলের যত্নের ধরনও ভূমিকা রাখতে পারে।
মানসিক চাপের প্রভাব
পড়াশোনা, চাকরি, আর্থিক অনিশ্চয়তা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শরীরের ওপর পড়তে পারে। এর প্রভাব দেখা যেতে পারে চুলের ক্ষেত্রেও।
অতিরিক্ত মানসিক চাপের পর অনেকের ক্ষেত্রে ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সংখ্যক চুল দ্রুত ঝরে পড়ার পর্যায়ে চলে যায়। তাই হঠাৎ চুল পড়া বেড়ে গেলে শুধু নতুন প্রসাধনী ব্যবহারের দিকে না তাকিয়ে সাম্প্রতিক মানসিক চাপ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
খাবারে পুষ্টির ঘাটতি
দ্রুত ওজন কমানোর প্রবণতা, ক্র্যাশ ডায়েট বা একঘেয়ে খাবারের কারণে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন ও বিভিন্ন ভিটামিন না পেলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
তাই চুল ভালো রাখতে শুধু বাইরে থেকে যত্ন নেওয়া নয়, প্রতিদিনের খাবারেও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি।
হিট ও কেমিক্যালে চুলের ক্ষতি
স্ট্রেটনার, কার্লিং আয়রন, ব্লো-ড্রায়ারসহ বিভিন্ন হিট স্টাইলিং সরঞ্জামের নিয়মিত ব্যবহার চুলের গঠন দুর্বল করতে পারে। একইভাবে বারবার চুলে রং করা, ব্লিচ বা রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট করলেও চুল ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে।
এ ধরনের ক্ষতিতে অনেক সময় গোড়া থেকে চুল পড়ার বদলে চুলের মাঝখান বা ডগা ভেঙে যেতে থাকে। ফলে চুলের ঘনত্ব কম মনে হতে পারে।
চুল বাঁধার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ
দীর্ঘ সময় খুব শক্ত করে চুল বাঁধা, টাইট পনিটেল বা কিছু নির্দিষ্ট স্টাইল নিয়মিত করার অভ্যাস চুলের গোড়ায় টান তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চাপ থাকলে চুলের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ ছাড়া নিয়মিত হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত টানের কারণে চুলের ওপর চাপ পড়তে পারে।
মাথার ত্বকের সমস্যাও কারণ হতে পারে
মাথার ত্বকে সংক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলেও চুল পড়া বাড়তে পারে। পাশাপাশি হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও বংশগত কারণও কম বয়সে চুল পাতলা হওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই হঠাৎ চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে শুধু প্রসাধনী পরিবর্তন না করে সমস্যার কারণ বোঝাও জরুরি।
অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্কতা
চুল পড়া বন্ধ করতে বাজারের নানা ধরনের পণ্য ব্যবহার করেন অনেকে। কিন্তু সব ধরনের প্রসাধনী সবার চুল বা মাথার ত্বকের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার উল্টো চুলের ক্ষতি করতে পারে।
চুল পড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে, মাথার নির্দিষ্ট অংশে চুল পাতলা হয়ে গেলে বা দীর্ঘদিন সমস্যা চলতে থাকলে কারণ নির্ণয়ের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।


