...|...|...

লাইফস্টাইল

হাড়ের ক্ষয় রুখতে খাদ্যতালিকায় রাখুন ৫ পুষ্টিকর খাবার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৫৮
Shares
হাড়ের ক্ষয় রুখতে খাদ্যতালিকায় রাখুন ৫ পুষ্টিকর খাবার

ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে মজবুত হাড়ের বিকল্প নেই। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। এর ফলে অস্টিওপোরোসিসসহ বিভিন্ন হাড়ের রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে হাড় দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

তবে খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা পরিবর্তন এনে হাড়ের ক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতে এবং হাড়ের স্বাভাবিক শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা পাওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন এই ৫ ধরনের খাবার।

১. হাড়ের শক্তি বাড়াতে দুধ

হাড় মজবুত রাখার কথা বললে প্রথমেই আসে দুধের নাম। দুধ ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। পাশাপাশি এতে প্রোটিন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে দুধ পান করলে শরীরের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে সহায়তা পাওয়া যায়। হাড়ের গঠন ও ঘনত্ব বজায় রাখতেও এটি ভূমিকা রাখে।যাদের দুধে ল্যাকটোজ হজমে সমস্যা হয়, তারা ল্যাকটোজমুক্ত দুধ কিংবা ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ বিকল্প খাবার বেছে নিতে পারেন।

২. সবুজ শাকসবজি রাখুন খাদ্যতালিকায়

হাড়ের সুস্থতার জন্য বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন। পালংশাক, ব্রকলি, পাতা কপি ও অন্যান্য সবুজ শাকে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন কে এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।

বিশেষ করে ভিটামিন কে হাড়ের বিপাকীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৩. নিয়মিত খান সামুদ্রিক মাছ

হাড়ের সুস্থতায় ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিন শরীরকে খাবার থেকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।স্যামন, সার্ডিন ও টুনার মতো কিছু সামুদ্রিক মাছ ভিটামিন ডির ভালো উৎস। এ ছাড়া তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রোটিন পাওয়া যায়।

তাই সপ্তাহের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর মাছ রাখতে পারেন। ছোট মাছও কাঁটাসহ খেলে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

৪. বিভিন্ন ধরনের বীজ খান

চিয়া সিড, তিল, কুমড়ার বীজ ও সূর্যমুখীর বীজে হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

বিশেষ করে তিলে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। অন্যদিকে কুমড়ার বীজে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক ও প্রোটিন। এসব উপাদান হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্রমে সহায়তা করে।সকালের নাশতায়, সালাদে কিংবা দইয়ের সাথে অল্প পরিমাণে এসব বীজ মিশিয়ে খেতে পারেন।

৫. খাদ্যতালিকায় রাখুন বাদাম

বাদাম শুধু হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, হাড়ের সুস্থতার জন্যও উপকারী। কাঠবাদাম, আখরোট ও অন্যান্য বাদামে ম্যাগনেশিয়াম, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে।

বিশেষ করে কাঠবাদামে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়। এসব পুষ্টি উপাদান হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের বাদাম খেতে পারেন।

হাড় ভালো রাখতে আরও যা করবেন

শুধু পুষ্টিকর খাবার খেলেই হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব নয়। পাশাপাশি কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে।

  • নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও ওজন বহনকারী ব্যায়াম করুন।
  • পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পেতে নিরাপদভাবে সূর্যের আলো গ্রহণ করুন।
    ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
  • প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন নিশ্চিত করুন।
  • অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের অভ্যাস কমিয়ে আনুন

সব মিলিয়ে, বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড়ের যত্ন নেওয়া আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়ে। তাই ছোটবেলা থেকেই সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করুন। এতে দীর্ঘদিন হাড়ের শক্তি ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা পাওয়া যাবে।