দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন অধ্যায় শুরু হলো রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার। তুমান নদীর ওপর নির্মিত দুই লেনের প্রথম সড়ক সেতুটি সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। উদ্বোধনের দিনই পতাকাশোভিত কয়েকটি ট্রাক সেতুটি দিয়ে চলাচল করে।
প্রায় এক কিলোমিটার (০.৬ মাইল) দীর্ঘ এই সেতুতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন চলাচল করতে পারবে। রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন জানিয়েছেন, সেতুটি রাশিয়ার ফেডারেল সড়ক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হবে।
উদ্বোধনী আয়োজনে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত হন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে-সং। এ সময় তারা দুই দেশের কর্মকর্তা ও কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
এতদিন রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আকাশপথ ও রেলপথে যোগাযোগ থাকলেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগের কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘদিনের আলোচনার পর গত বছরের এপ্রিলে তুমান নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়া সফরের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে এ প্রকল্প নিয়ে ঐকমত্য হওয়ার পরই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।
সেতু উদ্বোধনের পর মিশুস্তিন বলেন, আমি নিশ্চিত যে, আন্তঃসীমান্ত পরিবহন অবকাঠামোর সম্প্রসারণ বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসাবে কাজ করবে।
রুশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মস্কো এবং পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক এক নজিরবিহীন উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং দুই দেশের মধ্যে সড়ক সেতুর উদ্বোধন সত্যই এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এই সেতু নির্মাণ কেবল একটি প্রকৌশল প্রকল্পই নয়, বরং বন্ধুত্বের এক নতুন প্রতীক।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সাল থেকে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ইউক্রেনীয় সেনাদের রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উত্তর কোরিয়া হাজার হাজার সেনা পাঠায়।
সোমবারের বক্তব্যে সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মিশুস্তিন। উত্তর কোরিয়ার সেনাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা মাত্র কিছুদিন আগেই আমাদের (রুশ) সেনাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে এবং রাশিয়ার মাটি রক্ষা করেছে।
নতুন সড়ক সেতুটিকে তাই শুধু দুই দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর সম্প্রসারণ নয়, বরং রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে।


