...|...|...

বিশ্ব

ইরান যুদ্ধে প্রাণ হারানো মার্কিন সেনাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে পেন্টাগনের অস্বীকৃতি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:৪৯
Shares
ইরান যুদ্ধে প্রাণ হারানো মার্কিন সেনাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে পেন্টাগনের অস্বীকৃতি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান অভিযানে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারগুলো ভাতা ও সরকারি সুবিধা পাওয়া নিয়ে জটিলতায় পড়েছে। মার্কিন কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করায় এসব পরিবার সুবিধা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রশাসনিক এই কাঠামোগত বিভ্রান্তির নির্মম শিকার হয়েছেন কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের বৈমানিক ৩৩ বছর বয়সী মেজর অ্যালেক্স ক্লিনারের বিধবা স্ত্রী লিবি ক্লিনার। গত মার্চে পশ্চিম ইরাকে ইরানে হামলায় সহায়তাকারী একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ছয় সেনা সদস্যের একজন ছিলেন অ্যালেক্স।

পেন্টাগনের প্রশাসনিক নথির গ্যাঁড়াকলে পড়ে লিবি ক্লিনারকে শুরুতেই জানানো হয়েছিল, তার স্বামীর মৃত্যু আনুষ্ঠানিকভাবে 'যুদ্ধের কারণে' না হওয়ায় তিনি বিশেষ কিছু আর্থিক সুবিধার আওতায় পড়বেন না।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিবি তুলে ধরলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, যে সেনা দেশের জন্য প্রাণ দিলেন, মৃত্যুর পর তার পরিবারকে বলা হচ্ছে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ছিল না—ফলে পাওনা সুবিধা পাওয়া যাবে না।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন বিমানবাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। কর্মকর্তারা স্বীকার করেন যে প্রাথমিক তথ্য বিভ্রান্তিকর ছিল এবং বেতন বিবরণীতে ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বের ভাতা ভুল শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। একই সাথে নিশ্চিত করা হয় যে, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই প্রতি মাসে ২২৫ ডলারের 'কমব্যাট পে' বা যুদ্ধকালীন ভাতা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার ওই পরিবারের রয়েছে।

একজন শোকাতুর পরিবারের সদস্য হিসেবে লিবি ক্লিনার মন্তব্য করেন, প্রিয়জনকে হারানোর মতো কঠিন সময়ে অধিকার বুঝে পেতে একজন স্বজনকে আমলাতান্ত্রিক পরিভাষা কিংবা নথিপত্রের বিশেষজ্ঞ হতে হওয়া চরম দুঃখজনক। তার মতে, গোল্ড স্টার পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

এই বিতর্ক গড়ায় হোয়াইট হাউস পর্যন্ত। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আশ্বাস দেন যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে শতভাগ সহায়তা দেওয়া হবে। তবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এই অভিযানকে 'যুদ্ধ' হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করেন এবং জানান, সেখানে এখন আর সার্বক্ষণিক সক্রিয় গোলাগুলি হচ্ছে না। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি এই সংঘাতকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের বদলে 'সামরিক সংঘাত' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গত ছয় মাসে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমে অন্তত ১৮ জন সেনা নিহত এবং ৭৮০ জন আহত হয়েছেন। কিন্তু হতাহতের সংখ্যা বা মাত্রা গোপন করার অভিযোগ উঠেছে খোদ পেন্টাগনের বিরুদ্ধে।

নিহত ও আহত সেনাদের পরিবারের দাবি, জখমের গভীরতা আড়াল করতে সামরিক কর্তৃপক্ষ তথ্যের প্রবাহ চেপে রাখছে। যদিও মার্কিন সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে। তবে সেন্ট্রাল কমান্ডের নীতি অনুযায়ী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকা আহত সেনাদের তথ্য প্রকাশে সেনা বিভাগ কিছুটা ধীরগতি নীতি অবলম্বন করে থাকে