...|...|...

বিশ্ব

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের ডাক

কঠোর অবস্থানে ইসলামাবাদ, ১০০০ কন্টেইনার দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:৪০ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:৪৩
Shares
কঠোর অবস্থানে ইসলামাবাদ, ১০০০ কন্টেইনার দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড

ছবি: সংগৃহীত

কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি ও সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদকে কার্যত একটি দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। প্রতিবাদ ঠেকানোর অজুহাতে হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, শিপিং কন্টেইনার বসিয়ে সড়কগুলো অবরুদ্ধ করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আগামী রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে, যা কর্তৃপক্ষের সাথে একটি বড় ধরনের সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই বিক্ষোভ দমনে সরকার ইতোমধ্যেই ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে এবং ইমরানের তিন বোনসহ বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে আটক করেছে। পারমাণবিক শক্তিধর এই দেশটিতে এই বিক্ষোভ রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তার সাথে লড়াই করা সরকারের জন্য ব্যাপক জনসমাগম বা সংঘর্ষের ঘটনা ব্যবসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের ৭ বিলিয়ন ডলারের বেলআউট কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য দেশটিতে অবস্থান করছে। বছরের পর বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক অস্থিরতার পর এই তহবিল দেশটির অর্থনীতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করতে সাহায্য করেছিল। এই সপ্তাহের শুরুতে করাচিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে আলোচনা শুরু করেছে আইএমএফ মিশন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী সোমবার (বিক্ষোভের পরের দিন) সরকারের সাথে বৈঠকের জন্য তাদের ইসলামাবাদে যাওয়ার কথা রয়েছে।

দ্য নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেই কেবল ওই পর্বের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, রবিবার পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে রাজধানীতে অস্থায়ী ব্যারিকেড হিসেবে প্রায় ১,০০০ শিপিং কন্টেইনার বসানো হয়েছে এবং ২২ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। তবে কন্টেইনার বসানোর সুনির্দিষ্ট কারণ ওই কর্মকর্তা জানাননি।

উল্লেখ্য, শিপিং কন্টেইনারের সাথে ইমরান খানের একটি রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে; অতীতে তিনি সমর্থকদের চাঙ্গা করতে প্রায়ই এই অস্থায়ী ব্যারিকেডগুলোর ওপর চড়ে বসতেন। ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ইমরান ২০২২ সালের একটি প্রতিবাদ মিছিলে এ রকমই একটি কন্টেইনারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকার সময় বন্দুকধারীর গুলিতে পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন।

দুর্নীতির একটি মামলায় বর্তমানে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন ইমরান খান। তার পরিবার ও আইনজীবীদের অভিযোগ, কারা কর্তৃপক্ষ তাকে অত্যন্ত অমানবিক পরিস্থিতিতে আটকে রেখেছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দিনের ২৩ ঘণ্টাই প্রাকৃতিক আলো বা অন্য বন্দিদের সাথে যোগাযোগহীন একটি ছোট সেলে কাটিয়ে দিতে হয় বলে তারা দাবি করেছেন। যদিও পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে, রবিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সরকারি মন্ত্রীরা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে বিক্ষোভকারীরা দেশকে অচল করে দিতে পারবে এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকার ইতোমধ্যেই প্রধান মহাসড়কগুলোসহ রাজধানীতে প্রবেশের অন্যান্য রুটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে; যার মধ্যে পিটিআই শাসিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার সাথে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ দুই মাসের জন্য সমগ্র ইসলামাবাদজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করে জরুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর আওতায় জনসমক্ষে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, র‍্যালি ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জিও নিউজের খবরে বলা হয়, নিরাপত্তা জোরদার করতে পাঞ্জাব প্রদেশ রাওয়ালপিন্ডিসহ চারটি জেলায় আধা সামরিক বাহিনী ‘রেঞ্জার্স’ মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া মার্চের আগে ওই প্রদেশে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখারও আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে, সরকারের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে পিটিআই জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার সাংবিধানিক অধিকার হরণ করতে সরকার এসব ক্ষমতা অপব্যবহার করছে। পিটিআই চেয়ারম্যান গোহর আলী খান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা যখন ইসলামাবাদে প্রবেশ করব, তখন সেখানে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ থাকবে এবং চারপাশ পাকিস্তানের পতাকায় ভরে যাবে।