...|...|...

সারাদেশ

৩ ছাত্রীকে জঙ্গি সাজিয়ে পুলিশে দেওয়া সেই শিক্ষিকার পদোন্নতি

মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৪১
Shares
৩ ছাত্রীকে জঙ্গি সাজিয়ে পুলিশে দেওয়া সেই শিক্ষিকার পদোন্নতি

তিন ছাত্রীকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে পুলিশে দেওয়া সেই শিক্ষিকা অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের তিন ছাত্রীকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে পুলিশে দেওয়ার অভিযোগ ওঠা সেই শিক্ষিকা অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা বদলি হয়েছেন। তাকে পদোন্নতি দিয়ে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা। এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তার বদলির বিষয়টি জানা যায়।

নিলুফার সুলতানা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি কলেজটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেন।

ভুক্তভোগী তিন ছাত্রী ও মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের ওই তিন ছাত্রীর কাছে ইসলামিক বই পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অভিযোগ তুলে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে প্রায় এক দশক ধরে আদালতে আইনি লড়াই চালাতে হয় তাদের। পাশাপাশি জামিন ও সামাজিকভাবে নানা চাপের মধ্যেও থাকতে হয়েছে।

সর্বশেষ চলতি বছরের ২৪ মে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত জঙ্গিবাদের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিন ছাত্রীকে খালাস দেন।

নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী তিন ছাত্রী বলেন, নয় বছর ৯ মাস ২৭ দিন ধরে মামলাটি চলেছে। এ সময়ে ভিক্টোরিয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। এখন যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, এই কমিটির নাম দেওয়া হোক আজীবন তদন্ত কমিটি। নয় বছরেও তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এখন নিলুফার সুলতানা কুমিল্লা থেকে চলে যাচ্ছেন। আমরা কি এই ঘটনার বিচার পাব?

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ ও মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা বলেন, তাদের জীবনে যা ঘটে গেছে, আমরা কি সেটা ফিরিয়ে দিতে পারব? ভাগ্য ভালো, সরকার পরিবর্তনের কারণে তারা মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছে। আমাদের তদন্ত কমিটি বলেছে, এগুলো ইসলামিক বই, জঙ্গিবাদের বই নয়।