যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট ‘রোডম্যাপ’ বা রূপরেখা প্রস্তাব করেছে তেহরান। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, পুরো অঞ্চলে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রস্তাব সম্পর্কে অবগত আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি বৃহত্তর আলোচনার সময়সূচির পাশাপাশি আরব প্রতিবেশীদের ওপর হামলা বন্ধ করার বিষয়টিও এই রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে ওয়াশিংটন তেহরানের শর্তগুলো মেনে নিলে মাত্র সাত দিনের মধ্যেই কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করা সম্ভব।
গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে কূটনীতির সুযোগ এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে, তবে যেকোনো চুক্তি হতে হলে তা অবশ্যই তেহরানের দাবিগুলোকে সামনে রেখেই করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন কূটনীতির পথ উন্মুক্ত রাখলেও সামরিক বিকল্পগুলোও সমানভাবে টেবিলে রয়েছে।
বর্তমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উভয় পক্ষই জনসম্মুখে এমন কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে যা ছাড় দেওয়ার খুব একটা সুযোগ রাখছে না। এদিকে এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিভিন্ন হামলার ফলে আরব উপদ্বীপের আশপাশের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তেজনা কমাতে এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার বর্তমানে পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের সাথে যৌথভাবে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, চলমান যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মারাত্মক পরিণতি ভোগ করা সত্ত্বেও উপসাগরীয় দেশগুলোর এই আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। যুদ্ধ অবসানের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত বা ঘোষিত হয়নি।
এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিশ্র বার্তা দিয়ে চলেছেন। নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যকার বৈঠকগুলোকে ফলপ্রসূ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন যে একটি সম্ভাব্য চুক্তির দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে। তবে একই সাথে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে তিনি কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে তেহরানের সামনে চুক্তি করা অথবা সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়ার—এই দুটির যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার পথ খোলা রয়েছে।


