...|...|...

বিশ্ব

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন

রাশিয়ায় হামলা বন্ধ করতে জেলেনস্কিকে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৭ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৮
Shares
রাশিয়ায় হামলা বন্ধ করতে জেলেনস্কিকে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী ডিজেল সংকট তীব্র হওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধ করার জন্য চাপ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) এক ফোনালাপে এই আহ্বান জানান তিনি। ফোনালাপের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।

ফোনালাপে উপস্থিত থাকা এক জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা এফটি-কে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল বার্তাটি ছিল কেবল ডিজেল নিয়ে এবং তিনি জেলেনস্কিকে তার সেনাবাহিনীকে ড্রোন ও মিসাইল হামলা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য তাগিদ দিয়েছেন।

ফোনালাপের বিষয়ে অবগত অপর এক জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা জানান যে, ট্রাম্প ডিজেলের বর্ধিত মূল্য নিয়ে তার গভীর উদ্বেগের কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেন এবং বৈশ্বিক বাজারে রুশ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চান যাতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসে।

ফোনালাপের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি এটিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন’ বলে অভিহিত করেন এবং জানান যে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে ট্রাম্পের সাথে তার বৈঠক অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। তার কার্যালয় জানিয়েছে যে এই বৈঠকটি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কোনো বিস্তারিত না জানিয়ে তিনি বলেন, কূটনৈতিক গতিশীলতা রয়েছে।

মস্কোতে রুশ কর্তৃপক্ষ যাকে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা বলে অভিহিত করেছে, তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই এই ফোনালাপটি হয়। ওই হামলায় মস্কোর একটি প্রধান তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়, অন্তত দুজন নিহত হন এবং ২০ জন আহত হন।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান যে, রাজধানী অভিমুখে এগিয়ে আসার সময় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৫০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর জবাবে রাশিয়াও ইউক্রেনীয় লক্ষ্যবস্তুগুলোতে তাদের মারাত্মক মিসাইল ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে জ্বালানি অবকাঠামো, পেট্রোল পাম্প, বাণিজ্যিক গুদাম এবং অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে, গত সোমবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না চালাতে সম্মত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দাম বাড়ার জন্য তিনি ইরানের সাথে তার সংঘাতকেই দায়ী করেছিলেন, যা ইউক্রেনের সাথে তার দ্বন্দ্ব নয়। তবে সে সময় ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এফটিকে জানিয়েছিলেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিছুটা তাড়াহুড়ো করে ফেলেছেন এবং কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি সম্মত হয়নি। ট্রাম্পের ওই বিবৃতির পর জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, আমেরিকা ও অন্যান্য অংশীদাররা যদি রাশিয়াকে একই কাজ নিশ্চিত করতে পারে, তবে ইউক্রেন একটি পারস্পরিক যুদ্ধবিরতিকে সম্মান জানাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার পক্ষ থেকেও অনুরূপ কোনো অনুরোধ করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার জন্য ট্রাম্পের প্রচেষ্টার বিষয়ে রাশিয়া কোনো মন্তব্য করেনি। এই শীতের শেষ হওয়ার আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ বিষয়ে রাজি হবেন বলে মনে হচ্ছে না, কারণ এ সময় তার বাহিনী ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর এক ধ্বংসাত্মক বিমান হামলার পরিকল্পনা করছে বলে পুতিনের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। ওই ব্যক্তিরা বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস করেন যে তার বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের একটি অন্যতম প্রধান ভূখণ্ড ডনবাসের বাকি অংশগুলো দখল করে নেবে এবং তিনি এই বিমান অভিযানকে কিয়েভের কাছ থেকে আরও ছাড় আদায়ের একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন।

এদিকে, পুতিন এই মাসে জানিয়েছিলেন যে, রুশ জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের হামলার জবাবে তিনি দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে একটি বিশাল বিমান-হামলা অভিযান প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, তারা আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তারা এর জবাব পাবে। মূলত বিষয়টি এমনই। জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের আগের মার্কিন প্রচেষ্টাগুলো ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানের সাথে তার যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অবকাঠামোগত ক্ষতির ফলে সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে দাম অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডিজেল মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য একটি রাজনৈতিক দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ইউক্রেনের কেএসই ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক একটি মূল্যায়নে দেখা গেছে যে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার তুলনায় বৈশ্বিক ডিজেল, তেল ও গ্যাস সরবরাহের ওপর মার্কিন-ইরান যুদ্ধের প্রভাব অনেক বেশি বড় ছিল।

এক জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা মনে করেন যে, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনকে প্ররোচিত করার জন্য ট্রাম্প গত সপ্তাহে তার স্বাক্ষরিত রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইনটির বাস্তবায়ন স্থগিত রাখতে পারেন। তবে ওই কর্মকর্তা এও বলেছেন যে, মস্কোকে কিয়েভের সাথে যোগাযোগ করতে এবং সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে বাধ্য করার জন্য ট্রাম্প এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে রাশিয়ার বিরুদ্ধেও লিভার বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসন স্বয়ংক্রয়ভাবে নিষেধাজ্ঞাগুলো বাস্তবায়ন না করে আলোচনার ক্ষেত্রে সেগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করে।

সোমবার নিউইয়র্কে যাওয়ার পথে এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া তার উত্তেজনা থেকে পিছপা হচ্ছে না এবং যুদ্ধ প্রসারিত করতে প্রস্তুত রয়েছে—এমন অনেক সংকেত পাঠাচ্ছে। তিনি সংঘাত বন্ধ করতে মস্কোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখার জন্য মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান এবং যুক্তি দেন যে ইউক্রেনীয় ড্রোন ও মিসাইল অভিযান হলো এমন এক চাপের অংশ যা আসলেই কাজ করছে এবং বিশ্ব তা অনুভব করতে পারছে।

তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি কূটনীতিকেও কাজ করতে হবে।