...|...|...

বিশ্ব

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে যেসব বিষয়ে মিথ্যা বলেছেন ট্রাম্প

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৮
Shares
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে যেসব বিষয়ে মিথ্যা বলেছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্পের ৩৭ মিনিটের বক্তব্যে উঠে আসা বিভিন্ন যুদ্ধবিরতি দাবি, জলবায়ু পরিবর্তন, বিনিয়োগের পরিমাণ, সামরিক অস্ত্রের মজুদ ও অপরাধ হ্রাসের পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তথ্য যাচাইকারীরা।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাতিসংঘে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণটি গত বছরের চেয়ে কিছুটা কম বিস্ফোরক ছিল। তবে এবারও তিনি নানা বিষয়ে ‘মিথ্যা’ বলেছেন।

অধিবেশনে ট্রাম্পের করা বিভিন্ন দাবির একটি তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

যুদ্ধবিরতি ও শান্তির দাবি

ট্রাম্প তার ভাষণে দাবি করেছেন যে তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আটটি যুদ্ধ সমাধান করার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। তিনি কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, কসোভো-সার্বিয়া, রুয়ান্ডা-ডিআর কঙ্গো, ভারত-পাকিস্তান, আর্মেনিয়া-আজানবাইজান এবং গাজার সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি পূর্বে মিশর-ইথিওপিয়া এবং ইসরায়েল-ইরানের সংঘাতের অবসান ঘটানোর দাবি করেছিলেন। তবে তার এই ‘আটটি যুদ্ধ’ নিষ্পত্তির হিসাবটি একটি স্পষ্ট অতিরঞ্জন।

ভুল ও অবাস্তব পরিসংখ্যান

ট্রাম্পের এই তালিকার মধ্যে এমন দুটি পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা তার মেয়াদের সময় আদতে কোনো যুদ্ধই ছিল না। মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার দ্বন্দ্বটি একটি ইথিওপীয় বাঁধ প্রকল্প নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ ছিল এবং কসোভো ও সার্বিয়ার মধ্যকার কথিত সমস্যাটিও কোনো যুদ্ধ ছিল না। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও রুয়ান্ডা ও ডিআর কঙ্গোর মধ্যকার যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত দাবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্ববাসীর সতর্কবার্তার সমালোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন যে, গ্রহ শীতল হওয়ার কারণে নাম বদলে ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ রাখা হয়েছে এবং এতে কেউ মারা যায়নি। তবে জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ এবং এর প্রভাবে সৃষ্ট বহুমুখী প্রভাব বোঝাতে ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ শব্দ দুটি ব্যবহার করা হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে যে রেকর্ড অনুযায়ী বিগত ১১ বছর ইতিহাসের উষ্ণতম বছর ছিল। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়ার মতো কারণে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ২০৩০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি বছর অতিরিক্ত ২৫০,০০০ মানুষ মারা যেতে পারে।

মার্কিন বিনিয়োগের তথ্য

ট্রাম্প তার ভাষণে দাবি করেছেন যে তারা বিশ্বজুড়ে নতুন বিনিয়োগের জন্য ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি অর্জন করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধান বিনিয়োগ ঘোষণা ছিল ১১.২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা প্রেসিডেন্টের দাবি করা পরিমাণের চেয়ে অনেক কম। এ ছাড়া ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল মাত্র ২৩২ বিলিয়ন ডলার।

অস্ত্র সংক্রান্ত বিতর্ক

ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের কোনো ঘাটতি নেই এবং তারা ধারণার চেয়েও বেশি অস্ত্র তৈরি করছে। তবে ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট এবং কঙ্গোশনাল বাজেট অফিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ইরান যুদ্ধের কারণে কৌশলগত ইনভেন্টরিতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং সলিড রকেট মোটর ও উচ্চমানের বিস্ফোরক উৎপাদনে উৎপাদন খাতের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাজেট অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর বা বাধা প্রদানকারী অস্ত্রের ইনভেন্টরি কমে যাওয়ায় তা পুনর্নির্মাণে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

ওয়াশিংটনে অপরাধ হ্রাসের দাবি

ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর ওয়াশিংটন ডিসিতে অপরাধের হার ৮৭ শতাংশ কমে গেছে এবং তারা ১০০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছেন। তবে স্থানীয় পুলিশ বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৪ সালের একই তারিখের তুলনায় অপরাধের হার কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ (এবং ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ), যা ট্রাম্পের দাবিকৃত ৮০ শতাংশের কাছাকাছিও নয়। হোয়াইট হাউস দাবি প্রমাণের জন্য অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বা হত্যার হারের সামান্য হ্রাসের কথা উল্লেখ করলেও তা ট্রাম্পের দাবিকৃত বিশাল শতাংশের সাথে মেলে না।