পাকিস্তান বিমান বাহিনী চীনের তৈরি স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এইচকিউ-১৭এই উন্মোচন করেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে প্রথমবারের মতো ব্যবস্থাটি সামনে আনে পাকিস্তান বিমান বাহিনী।
চীনা সামরিক বিশেষজ্ঞ ওয়াং ইউনফেই বলেছেন, পাকিস্তান এই ব্যবস্থার নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারী হয়েছে। তার মতে, এইচকিউ-১৭এই পাকিস্তানের স্বল্প-পাল্লার সহায়ক আকাশ প্রতিরক্ষার ঘাটতি পূরণ এবং ড্রোনের মতো নিম্ন-উচ্চতার হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
সংবাদমাধ্যম গ্লোভাল টাইমস জানিয়েছে, এর আগে পাকিস্তান চীনের দীর্ঘ-পাল্লার এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার মধ্যে এইচকিউ-৯/পি ও এইচকিউ-৯বিই সংস্করণ রয়েছে, সেগুলো সজ্জিত ও মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি দেশটি এইচকিউ-১৬ সিরিজের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ব্যবহার করছে। এর মধ্যে এলওয়াই-৮০ থেকে শুরু করে বর্ধিত পাল্লার এইচকিউ-১৬এফই ও এইচকিউ-১৬এই রয়েছে।
ওয়াং ইউনফেইয়ের মতে, এসব ব্যবস্থা পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর মাঝারি থেকে দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে নির্দিষ্ট স্থাপনা, সৈন্য সমাবেশ এলাকা ও সাঁজোয়া ইউনিটের সুরক্ষায় স্বল্প থেকে মাঝারি পাল্লার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। মাঝারি ও দীর্ঘ-পাল্লার প্রতিরক্ষা ভেদ করে কোনো শত্রু বিমান বা অস্ত্র ভেতরে ঢুকতে পারলে এসব স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এইচকিউ-১৭এই প্রথম প্রদর্শিত হয় ২০২১ সালে চীনের ঝুহাইয়ে অনুষ্ঠিত চীন আন্তর্জাতিক বিমান ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে। এটি চীনে তৈরি একটি বহুমুখী স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের দ্বিতীয় একাডেমি এই ব্যবস্থা তৈরি করেছে। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও প্রতিহত করার পাশাপাশি ব্যাপক আক্রমণ মোকাবিলায় সক্ষম। পুরো ব্যবস্থা একটি উচ্চ-গতিশীল চাকাযুক্ত যানেই সমন্বিত করা হয়েছে। নির্মাতা একে ‘নিম্ন-উচ্চতার বিমান শিকারী’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে।
এইচকিউ-১৭এইতে পর্যায়ক্রমিক বিন্যাসের রাডার, উল্লম্বভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং দ্রুত গতিতে মোড় নেওয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি জটিল তড়িৎ-চৌম্বকীয় পরিবেশে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ায়। ব্যবস্থাটি চলন্ত অবস্থায়ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারে এবং অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি এইচকিউ-১৭এই যান আটটি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে এবং একই সময়ে চারটি লক্ষ্যবস্তুতে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা করতে সক্ষম।
চীনের বাইরে সার্বিয়াও এই ব্যবস্থার ব্যবহারকারী। ২০২৪ সালের জুনে ক্রুশেভাক শহরে সামরিক কুচকাওয়াজের সময় তৎকালীন সার্বিয়ান প্রধানমন্ত্রী মিলোশ ভুচেভিচ জানিয়েছিলেন, চীন থেকে কেনা এইচকিউ-১৭এই প্রদর্শন করবে সার্বিয়া। তার দাবি ছিল, এই ব্যবস্থা সার্বিয়ার আকাশসীমার সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশটির শক্তিশালী এফকে-৩ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।


