প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশ দিয়েছেন। ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়িকে কেন্দ্র করে মামলাটি করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন বর্ধিত করার আবেদন করেন তানজিন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন।
তানজিন তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। সকাল ১১টা ২৭ মিনিটের দিকে তানজিন তিশা আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। পরে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি আদালতে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর শুনানি শুরু হয়।
শুনানির শুরুতে তানজিন তিশা বেঞ্চে বসে ছিলেন। পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর কথা বললে তিনি সেখানে গিয়ে দাঁড়ান।
তানজিন তিশার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খোরশেদ আলম। তিনি আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করে জামিন বর্ধিত করার আবেদন জানান।
অন্যদিকে বাদীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জহিরুল হাসান মুকুল জামিন বাড়ানোর বিরোধিতা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জামিন পাওয়ার পর তানজিন তিশা তা অপব্যবহার করেছেন এবং তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে বাদী ও আইনজীবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
এ সময় বিচারক অভিযোগ থাকলে তা লিখিত পিটিশন আকারে দাখিল করতে বলেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পরে তানজিন তিশার আইনজীবী খোরশেদ আলম বলেন, মামলাটি থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং এ বিষয়ে সময় প্রয়োজন।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তানজিন তিশার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশ দেন। তবে মামলার পরবর্তী তারিখ আদালত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অনলাইনভিত্তিক ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। শাড়িটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় পেজটির প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন।
মামলার পর আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে ডিবি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে আদালত গত ১২ জুলাই তা আমলে নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। তাকে ১৩ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তানজিন তিশা। পরে মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে পাঠানো হয়।
তবে মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানজিন তিশা দাবি করেন, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
আদালতে শুনানি শেষে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন তানজিন তিশা। তিনি বলেন, আইনের প্রতি তার বিশ্বাস রয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি আদালতে এসেছেন। প্রয়োজনে আরও কয়েকবার আদালতে আসতে হলেও তিনি আসবেন বলে জানান।
তানজিন তিশা বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তিনি সত্যতা নিয়ে বাঁচতে চান। কেউ আইনের অপব্যবহার করলে তিনি সেটিকে সমর্থন করেন না বলেও জানান।
মামলার বাদীপক্ষ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, বাদীর দুই বোন একটি সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। তবে এ বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য তিনি আদালতের বাইরে গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন।
তিশা আরও বলেন, তিনি বিষয়গুলো জটিলভাবে চিন্তা করেন না। তার কাছে ক্ষমতার অপব্যবহার না করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। তার নিজের ক্ষমতা বলতে দর্শকদের ভালোবাসাকেই বোঝেন তিনি।


