সাতক্ষীরায় হাতকড়া পরা অবস্থায় আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে যাওয়া দুই মাদক মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি শফিকুল ইসলামকে প্রায় তিন ঘণ্টা পর আবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা আদালত চত্বর থেকে পালানোর পর শহরের সদর হাসপাতালের পাশের অটোস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার শফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার রাড়িপাড়া গ্রামের সবুজ সানার ছেলে। তিনি একটি মাদক মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এবং আরেকটি মাদক মামলায় বিচারাধীন আসামি বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শফিকুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিন বোতল ফেনসিডিল ও ১৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে তাকে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এ ঘটনায় অধিদফতরের উপপরিদর্শক বিজয় কুমার মজুমদার বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে জিআর-২১/২৩ নম্বর মামলা করেন। পরে সাতক্ষীরা সার্কেলের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ২০২৫ সাল থেকে শফিকুল পলাতক ছিলেন। পরে মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। আগামী ১৮ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।
অন্যদিকে, পাটকেলঘাটা থানার জিআর-১৫৬/২২ নম্বর মাদক মামলায় শফিকুলের দুই বছরের সাজা হয়। ২০২৫ সালে সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম প্রথম আদালত পলাতক অবস্থায় তাকে এ সাজা দেন। এরপর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে শফিকুলকে গ্রেফতার করে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে তাকে সাতক্ষীরা আদালতে হাজির করার জন্য নিয়ে আসা হয়। দুপুর দেড়টার দিকে মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের ১০ তলা ভবনের তৃতীয় তলায় জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম প্রথম আদালতে নেওয়ার সময় হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের হেফাজত থেকে হঠাৎ দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি।
পরে তাকে ধরতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের পাশের অটোস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শফিকুলকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শফিকুল একটি মাদক মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এবং আরেকটি বিচারাধীন মাদক মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তাকে আদালতে নেওয়ার পর সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে শহরের সদর হাসপাতালের পাশের অটোস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, আদালত থেকে পালানোর ঘটনায় শফিকুলের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা করা হয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক বলেন, থানা থেকে আদালতে আনার পথে দুপুরের দিকে শফিকুল পালিয়ে যায়। পরে বিকেল ৪টার দিকে তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম প্রথম আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোপাল পালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে বক্তব্য দেননি।


