কক্সবাজারের টেকনাফে চরম দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষকসহ আট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় দুটিতে তালা ঝুলছে। এতে বিপাকে পড়েছে শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. আবদুল্লাহ।
বিভাগীয় মামলার আওতায় আসা শিক্ষকরা হলেন-হোয়াইক্যং ইউনিয়নের হরিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আকবর সাজ্জাদ এবং লাতুরিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার। এ ছাড়া দুই বিদ্যালয়ের আরও ছয় শিক্ষক রয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় দুটিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকেন এবং শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ থাকে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর দুই বিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়।
এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী সরেজমিনে বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীকে পাননি। শ্রেণিকক্ষগুলোও তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল।
পরে তদন্তে দেখা যায়, ১১ জনের মধ্যে তিনজন শিক্ষক বৈধ ছুটিতে ছিলেন। তাদের বাদ দিয়ে দুই প্রধান শিক্ষকসহ আট শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিভাগীয় মামলা করা হয়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, "দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. আবদুল্লাহ বলেন, প্রথমে ১১ শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছিল। তদন্তের পর ৮ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিদ্যালয়ে তালা থাকায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। দ্রুত শিক্ষকদের শাস্তি নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ে পাঠদান চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।


