...|...|...

আইন ও আদালত

আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিলেন হাইকোর্ট

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৩৭ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫৯
Shares
আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিলেন হাইকোর্ট

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার করা রিট আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি এস কে তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

দুদকের পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ এমন বক্তব্যের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়েছিল।

রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উপ-পরিচালক জানান, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ জানান, অনুসন্ধানের শুরুতেই কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ এমন বক্তব্য দেওয়ার আইনি এখতিয়ার দুদকের নেই। তার আবেদনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের কাঠামো অনুযায়ী অনুসন্ধান শেষে ফলাফল হিসেবে প্রাথমিক সত্যতা বিবেচিত হতে পারে।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী সময়ে ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল বলে স্বীকার করেন বলে রিটে দাবি করা হয়। তবে এর কোনো আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট প্রত্যাহার গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

এরপর ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে দুদককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও তা আমলে না নিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করা হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক নিয়োগ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ আরও কয়েকটি অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়।

রিট আবেদনে আসিফ মাহমুদ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মন্ত্রণালয়ের আদেশের মাধ্যমে হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়টিও রিটে তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ওই পদোন্নতি আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর, ১১ মে ২০২৬ সালে কার্যকর হয়। ফলে ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার দাবি আইনগত ও বাস্তবিকভাবে অসঙ্গত এমন দাবি করা হয়েছে।

রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ডিএনসিসি মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ পরিচালনার উদ্দেশ্যে এসব ব্রিফিং করা হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার এবং ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’ এর পরিপন্থী বলেও রিটে দাবি করা হয়।

রিটে তদন্ত বা অনুসন্ধানাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর সংবাদ সম্মেলন করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছিল।

রিটে দুদকের চেয়ারম্যান, কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) এবং সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা)কে বিবাদী করা হয়।