যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় আস্থা রাখতে পারছে না ইরান। পূর্ববর্তী দফার আলোচনার পর হামলা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের মধ্যে অনাস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘মার্কিনিদের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। তাদের সাথে ঠিক কীসের ভিত্তিতে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব, তা-ও আমাদের জানা নেই।’
চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন পেজেশকিয়ান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি চুক্তির প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান এবং সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের আরাগচি জানান, প্রস্তাবের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে পারস্পরিকভাবে সম্মত বিষয়গুলোর ওপর চূড়ান্ত চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা শুরু হবে। এর মাধ্যমে মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কথা বোঝানো হয়েছে বলে জানা যায়।
প্রস্তাবের আওতায় ইরানের বন্দরগুলো থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড়ের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
এ ছাড়া লেবানন ও ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির কথাও প্রস্তাবে রয়েছে।
এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রভাবের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পেজেশকিয়ান জানান, কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটনের কাছে ইরানের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। তিনি বলেন, গত জুনে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভিত্তিতেই নতুন প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান তাদের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসছে কারণ দেশটি যুদ্ধে ‘শোচনীয়ভাবে হেরে যাচ্ছে’।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘অভূতপূর্বভাবে জয়ী’ হচ্ছে এবং ইরানের সাথে প্রস্তাবিত চুক্তিও তিনি বাতিল করেছেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনো পরস্পরবিরোধী রয়েছে।



