ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরায়েলি বসতিগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৬১টি কোম্পানিকে কালো তালিকায় যুক্ত করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৪টিতে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের হালনাগাদ তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর অধিকাংশই ইসরায়েলি এবং এগুলো ১১টি দেশে অবস্থিত। এর আগে তালিকায় থাকা ১৫৮টি কোম্পানির মধ্যে পাঁচটিকে সর্বশেষ হালনাগাদ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি বসতিগুলোর সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ২০২০ সালে প্রথমবার প্রকাশিত তালিকাটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। তবে কোম্পানিগুলোকে কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার আইনি ক্ষমতা এই তালিকার নেই।
তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ফলে কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, মানবাধিকারের প্রতি কোম্পানিগুলোর দায়বদ্ধতা রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অপব্যবহারের ঘটনায় যাতে তারা জড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে যথাযথ সতর্কতা ও যাচাই প্রক্রিয়া বজায় রাখা উচিত।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল এবং তাদের বক্তব্য বা জবাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়।
তবে ইসরায়েল এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। জেনেভায় অবস্থিত ইসরায়েলি কূটনৈতিক মিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, এই তালিকা এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে, যারা কোনো অন্যায় করেনি। ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করার এই উদ্যোগের কাছে নতি স্বীকার না করতে দেশটির মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
ফিলিস্তিনি এলাকায় ইসরায়েলি বসতিগুলো নতুন করে আন্তর্জাতিক পর্যালোচনার মুখে পড়ার মধ্যেই জাতিসংঘের সর্বশেষ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।
চলতি মাসের শুরুতে ব্রিটেন ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেখানে বসতি স্থাপনকারী সন্ত্রাসীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযান চালাচ্ছে। ফ্রান্স ও কানাডাও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।


