...|...|...

বিশ্ব

তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পাকিস্তানি জামায়াতের ট্রেনমার্চ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:০৯
Shares
তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পাকিস্তানি জামায়াতের ট্রেনমার্চ

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহারের দাবিতে পাকিস্তানের জামায়াত-ই-ইসলামি ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে ট্রেনমার্চ করেছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) করাচি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে দলের আমির হাফিজ নাঈম-উর-রেহমানের নেতৃত্বে এ যাত্রা শুরু হয়। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

যাত্রার আগে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্যে নাঈম-উর-রেহমান বলেন, সারা দেশ থেকে মানুষ ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ট্রেনমার্চের পাশাপাশি রাজধানীর দিকে একটি সড়ক কাফেলাও পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, তাদের কর্মসূচি হায়দ্রাবাদ, লান্ধি, নবাবশাহ, রোহরি ও সুক্কুর হয়ে ইসলামাবাদে যাবে। রাজধানীতে পৌঁছানোর পর নারী কর্মীদেরও কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে বলে জানান তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, জনগণের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ কমানোই এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের অব্যবস্থাপনার বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

পেট্রোলিয়াম লেভিকে ‘অতিরিক্ত কর’ উল্লেখ করে নাঈম-উর-রেহমান বলেন, এটি প্রত্যাহার করা হলে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ২০০ রুপিতে নেমে আসতে পারে। তাঁর দাবি, এতে অর্থনীতিও গতি পাবে। সংকটের সময়ে সরকার সাধারণ মানুষকে আরও চাপের মুখে ফেলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত ৩৬ থেকে ৩৭ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। হায়দ্রাবাদ, সুক্কুর, মিরপুর খাস, লারকানা, নওশাহরো ফিরোজ, রাওয়ালপিন্ডি, গুজরাটসহ খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ চলছে বলে জানান তিনি।

নাঈম-উর-রেহমান সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, পেট্রোলিয়াম লেভি বাতিল না হলে জামায়াতের বর্তমান প্রতিবাদ কর্মসূচি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

দলটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানানো হয়, করাচি থেকে শুরু হওয়া ট্রেনমার্চ রাত ৮টার দিকে রোহরি ও সুক্কুরে পৌঁছাবে। সেখানে জনসভা শেষে বিক্ষোভকারীরা সোমবার মুলতানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

হায়দ্রাবাদে পৌঁছানোর পর রেলওয়ে স্টেশনে সমবেত কর্মীদের উদ্দেশেও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সেখানে কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে আন্দোলনে জনগণের সাড়ার প্রমাণ।

ইসলামাবাদে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ কর্মসূচিতে তাঁর বা দলের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই; বরং এটি পাকিস্তানের জনগণের স্বার্থের বিষয়।

সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে নাঈম-উর-রেহমান বলেন, জামায়াত আলোচনা চালালেও জনগণের জন্য স্বস্তিদায়ক কোনো প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। সরকার কোনো ছাড় বা স্বস্তির ব্যবস্থা করলে আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে শনিবার পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের নেতা রানা সানাউল্লাহ, আহসান ইকবাল ও সালমান রফিকসহ সরকারি একটি প্রতিনিধি দল লাহোরে জামায়াতের সদর দপ্তর মানসুরায় গিয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। নিরাপত্তাঝুঁকির কথা তুলে ধরে সরকার লংমার্চ স্থগিতের অনুরোধ জানালেও জামায়াতের নেতা লিয়াকত বালোচ জানান, লেভি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর সরকার ও জামায়াতের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে ১৬ আগস্ট থেকে লাহোর, পেশোয়ার, করাচিসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে নিয়মিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটি।

এদিকে, অন্যান্য দাবির পাশাপাশি কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। এর আগের দিন কর্মসূচি স্থগিতের জন্য সরকারের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস।