...|...|...

বিশ্ব

জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রস্তাব আটকাতে পারল না ভারত-ইসরায়েল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৩৩
Shares
জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রস্তাব আটকাতে পারল না ভারত-ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও ইসরায়েলের বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম কমিটিতে বিপুল ভোটে অনুমোদন পেয়েছে পাকিস্তান ও বেলারুশের যৌথভাবে উত্থাপিত একটি খসড়া প্রস্তাব। আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। ভোটাভুটিতে ১৮০টি দেশ এর পক্ষে অবস্থান নিলেও বিপক্ষে ভোট দেয় কেবল ভারত ও ইসরায়েল।

সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম কমিটিতে ‘সর্বাত্মক ও পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ: আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক প্রস্তাবটি ১৮০-২ ভোটে গৃহীত হয়। ভোটাভুটিতে কোনো দেশই বিরত থাকেনি।

প্রস্তাবটির বিরোধিতার কারণ ব্যাখ্যা করে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব আনমোল শের বেদি বলেন, প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ একটি আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে একে শুধু আঞ্চলিক কিংবা উপ-আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে সীমিত রেখে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

ভারতের অবস্থান তুলে ধরে বেদি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত নই যে এই প্রক্রিয়াটিকে প্রাথমিকভাবে আঞ্চলিক বা উপ-আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে পরিচালনা করা উচিত।’

তার দাবি, এ বিষয়ে ভারতের বর্তমান অবস্থান দেশটির দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নতুন করে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের রূপরেখা তৈরির প্রয়োজন দেখছে না ভারত

খসড়া প্রস্তাবে আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সহায়ক নীতিমালা ও রূপরেখা তৈরিতে জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ কমিশনকে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে নতুন করে এমন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নয়াদিল্লি।

ভারতের প্রতিনিধি আনমোল শের বেদি জানান, জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ কমিশন এর আগেও একই ধরনের বিষয়ে একাধিক নির্দেশিকা ও সুপারিশ গ্রহণ করেছে।

এর মধ্যে ১৯৯৩ সালে আঞ্চলিক নিরস্ত্রীকরণ, ১৯৯৯ সালে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ এবং ২০১৭ সালে প্রচলিত অস্ত্রের ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়ে নির্দেশিকা ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।

বেদি বলেন, যে সংস্থাকে এখন আবার নতুন করে শুরু করতে বলা হচ্ছে, তারা ইতোমধ্যেই একই বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

একই বিষয়ে পুনরায় আলোচনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভারতের এই কূটনীতিক বলেন, একটি বিষয় যা ইতোমধ্যে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে, জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ সংস্থাকে ব্যস্ত রাখা ছাড়া সেখানে কেন আরেক দফা আলোচনার প্রয়োজন—তা আমাদের বোধগম্য নয়।

খসড়া প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে নির্দিষ্ট অঞ্চল বা উপ-অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে এই ধারণার বাস্তবতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভারত।

আনমোল শের বেদি বলেন, এই ধারণায় ধরে নেওয়া হচ্ছে যে একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সম্পর্কিত উদ্বেগ বা শঙ্কাগুলো তাদের আঞ্চলিক সীমান্তে গিয়েই খুব ভদ্রভাবে থেমে যায়। বাস্তব বিষয় হলো—তা থামে না।

ভারতের যুক্তি, কোনো দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ শুধু তার নিজস্ব অঞ্চল কিংবা প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে এসব উদ্বেগ আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়। ফলে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে সামরিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার ধারণা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে পাকিস্তান ও বেলারুশের উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা মূলত আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সমঝোতার ভিত্তিতেই গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অধিকাংশ হুমকির উৎস হয়ে উঠেছে একই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মধ্যকার সংঘাত ও বিরোধ।

এ কারণে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবে।

এতে বলা হয়, সামরিক বাহিনীর আকার ও অস্ত্রের মজুত সম্ভাব্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে রেখে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নিতে হবে।