যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য ইরান যুদ্ধ, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রচারণার দুর্বলতাকে সামনে এনেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতির পরোক্ষ সমালোচনাও উঠে এসেছে। একই সাথে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টিতে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর ট্রাম্প ও ভ্যান্সের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা গেছে। একদিকে দলকে ঘুরে দাঁড় করানোর উপায় খুঁজছেন ভ্যান্স, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসে নিজের পছন্দের নতুন বলরুম নির্মাণের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন ট্রাম্প।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে নিজের অবস্থান জানান ভ্যান্স। সেখানে ইরানের সাথে যুদ্ধ বন্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার মতো বিষয় তুলে ধরেন তিনি। তার এসব বক্তব্যকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অথচ আগের দিন মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায় রিপাবলিকান পার্টি। এত বড় রাজনৈতিক ধাক্কার পরও বুধবার ট্রাম্পকে দৃশ্যত বিচলিত মনে হয়নি। বরং দিনটিকে ‘উদ্যাপনের দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গামও একই ধরনের মন্তব্য করেন।
এদিন হোয়াইট হাউসে নির্মাণাধীন নতুন বলরুমে ছাদ পর্যন্ত সর্বশেষ বিম স্থাপনের কাজ দেখতে যান ট্রাম্প। সেখানে তার উপস্থিতি ও উদ্যাপনের পরিবেশ অনেকটা চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা কোনো ক্রীড়া দলের বিজয়োৎসবের মতো ছিল।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, শিগগিরই এখানে চারদিকে ঝাড়বাতি থাকবে, মেঝেতে থাকবে মার্বেল পাথর। এটি খুব সুন্দর হবে। এটি হবে সবচেয়ে সুন্দর ভবন।
সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও নিজের ভাবমূর্তি ও স্থাপত্যকীর্তি গড়ে তোলার প্রতি ট্রাম্পের অতিরিক্ত মনোযোগ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ক্ষতির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প যখন নতুন বলরুমের সাজসজ্জা ও সোনালি অলংকরণ নিয়ে ভাবছেন, তখন ভ্যান্সের সামনে রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। কংগ্রেসের দুই কক্ষ হারানোর পর দলকে কীভাবে পুনর্গঠন করা যায় এবং অসন্তুষ্ট ভোটারদের আবার রিপাবলিকান শিবিরে ফেরানো যায়, তা নিয়েই তার চিন্তা। একই সাথে নিজের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা ধরে রাখতে নতুন নির্বাচনী জোট গড়ার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করছেন তিনি।
রিপাবলিকানদের নেতৃত্বে নিজেকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা
নির্বাচনী পরাজয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভ্যান্সের খোলামেলা মন্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তার বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতি ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে একাধিক পরোক্ষ সমালোচনা রয়েছে।
তবে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ওহাইওর গভর্নর পদপ্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর পক্ষে একটি আক্রমণাত্মক নির্বাচনী বিজ্ঞাপনকে সমর্থন করেছিলেন ভ্যান্স। ওই বিজ্ঞাপন শেষ পর্যন্ত রামাস্বামীর জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। এ ঘটনায় ভ্যান্সের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
সাম্প্রতিক পোস্টে ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, নির্বাচনের শেষ দিকে অর্থনীতি নিয়ে রিপাবলিকানদের প্রচারণা যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। দলটির একজন নির্বাচনী জরিপ বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের সাথে একমত হয়ে তিনি লেখেন, ‘শেষ দিকে আমাদের অর্থনৈতিক বার্তা যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল না’।
অথচ একই সময়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ‘স্বর্ণযুগ’ প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছিলেন। বাস্তবে দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ছিল, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছিল।
ভ্যান্সের বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের দুটি আলোচিত নীতি থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টাও দেখা গেছে। এর একটি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং অন্যটি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান।
ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ভ্যান্স লেখেন, আমরা যে কারণে হেরেছি, তা হলো যুদ্ধ।
অভিবাসন নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মনে করি, আইন প্রয়োগের পদ্ধতি পরিবর্তন করা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অবৈধ শ্রমিক নিয়োগকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে বেশি নজর দেওয়া যেতে পারে।
তবে অভিবাসন ইস্যুতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাজনৈতিকভাবে সতর্কও ছিলেন ভ্যান্স। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, আইন প্রয়োগের পদ্ধতি পরিবর্তনের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাব সামনে আনছেন। এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া রাজনীতিকদের তিনি বিভ্রান্তিকর অবস্থান গ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের পর ট্রাম্প-ভ্যান্সের প্রতি সমর্থন হারানো ভোটারদের ফেরানোর উপায় জানতে একজন নির্বাচনী জরিপ বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করেন ভ্যান্স। ওই বিশেষজ্ঞকে রাজনীতিতে নিজের পরিচিত সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের একজন হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি।
সেই আলোচনার ভিত্তিতে রিপাবলিকানদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন ভ্যান্স। এগুলো হলো—
১. ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা।
২. মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
৩. যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা।
৪. ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের প্রচলিত ধরনে পরিবর্তন আনা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চার দফা প্রস্তাবের মাধ্যমে রিপাবলিকানদের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে নিজের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছেন ভ্যান্স।
এদিকে ইরান যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ফক্স নিউজের উপস্থাপক র্যাচেল ক্যাম্পোস-ডাফির বক্তব্যকেও সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ট্রাম্প নতুন করে ইরানে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে খবর প্রকাশের মধ্যে ভ্যান্সের এই অবস্থান দুই নেতার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও ভ্যান্সের ভিন্ন অবস্থান
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা তুলে ধরলেও ট্রাম্পের সাথে প্রকাশ্যে সরাসরি বিরোধে জড়াতে চাননি ভ্যান্স।
এ বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি লেখেন, প্রেসিডেন্ট গত রাতে এ কথা বলেছেন।
অর্থাৎ যুদ্ধের কারণে নির্বাচনী পরাজয়ের বিষয়টি নিজের একক মূল্যায়ন হিসেবে উপস্থাপন না করে ট্রাম্পের আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনেছেন তিনি।
এর আগে গ্রীষ্মকালে ইরানের সাথে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরিতে কাজ করা মার্কিন আলোচক দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ভ্যান্স। তবে সেই কূটনৈতিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুদ্ধের রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে ট্রাম্প ও ভ্যান্সের অবস্থানের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক ক্ষতি হলেও জাতীয় স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্তকে তিনি সঠিক মনে করেন। তার মতে, যুদ্ধের কারণে সাময়িকভাবে জ্বালানির দাম বেড়েছে। তবে দেশের স্বার্থে যা করা প্রয়োজন, সেটিই করেছেন তিনি।
বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি কিছুই ভিন্নভাবে করতাম না।
অন্যদিকে ভ্যান্সের বক্তব্যে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই ভুল ছিল—এমন ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে। তার মূল্যায়নে, এই যুদ্ধের জন্য রিপাবলিকানদের বড় ধরনের রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ভ্যান্স লেখেন, ‘আপনি যদি যুক্তি দিতে চান যে যুদ্ধটি সার্থক ছিল, আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোও যদি সেই মূল্যের তুলনায় গ্রহণযোগ্য মনে করেন, তাহলে তা-ই বলুন। যুক্তি দিন, এই মূল্য দেওয়া সার্থক ছিল। আপনার সাথে একমত হই বা না হই, অন্তত সেটি হবে সৎ বক্তব্য। কিন্তু আমরা কেন হেরেছি, তা সবাই জানে। সামনে আমরা কোন পথে যাব, সে বিষয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা শুরু করতে হবে সেখান থেকেই।’
তবে ভ্যান্সের সাথে মতবিরোধের বিষয়টি বড় করে দেখাতে চাননি ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি জানান, যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট সম্ভবত সঠিক কথাই বলেছেন। একই সাথে যুদ্ধের কারণে স্বল্প সময়ের জন্য পেট্রলের দাম কিছুটা বেড়েছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি।
পরে ভ্যান্সও দুই নেতার মধ্যে বিরোধের ধারণা দূর করার চেষ্টা করেন। হোয়াইট হাউসের বলরুম পরিদর্শনের সময় ট্রাম্প তার বক্তব্যকে ‘ভালো’ বলেছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি দিয়ে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা
বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে ভ্যান্সের সংশয় নতুন নয়। অতীতেও তিনি এ ধরনের অভিযানের বিরোধিতা করেছেন। ইরাক যুদ্ধে নিজের সামরিক অভিজ্ঞতা থেকেই তার এমন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়।
এবার ইরান যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দিয়ে রিপাবলিকানদের একটি নির্দিষ্ট অংশের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন তিনি।
বিশেষ করে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা মাগা জোটের মধ্যে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপবিরোধী যে অংশ রয়েছে, তাদের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন ভ্যান্স। এই ধারার পরিচিত মুখদের মধ্যে রয়েছেন ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক টাকার কার্লসন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, মঙ্গলবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের পর ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইরান যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়া যেকোনো নেতার জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নামও আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে ভ্যান্সের নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ইতিহাসও তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
গত মাসে বিবেক রামাস্বামীকে ঘিরে বিতর্কের আগেও বিভিন্ন বিষয়ে অবস্থান বদলানোর কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।
এখন পর্যন্ত ভ্যান্স ব্যক্তিগতভাবে মাত্র একটি বড় নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। সেটি ছিল ২০২২ সালে ওহাইওর সিনেট নির্বাচন। ওই নির্বাচনে তার জয়ের পেছনে ট্রাম্পের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
অথচ ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক ছিলেন ‘হিলবিলি এলিজি’ বইয়ের লেখক ভ্যান্স। পরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রাম্পের সমর্থন লাভ করেন তিনি।
২০২৮ সালের নির্বাচনের হিসাব কষছেন ডিস্যান্টিসও
রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আলোচনায় শুধু ভ্যান্স নন, ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
২০২৪ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক প্রতিযোগিতায় ট্রাম্পের কাছে হেরে গিয়েছিলেন ডিস্যান্টিস। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচন সামনে রেখে আবারও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছেন তিনি।
ভ্যান্স ও মার্কো রুবিওর মতো ডিস্যান্টিসের সাম্প্রতিক বক্তব্যকেও পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রস্তুতি হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ডিস্যান্টিস লেখেন, ‘২০২৮ সালে রিপাবলিকানদের পক্ষে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া খুবই অসম্ভব। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ হয়তো ২০৩২ সালের আগে আসবে না।’
মঙ্গলবারের নির্বাচনে দলের বড় পরাজয়ের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডিস্যান্টিস পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, দেশের অনেক এলাকায় রিপাবলিকানদের জন্য এটি প্রায় অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার মতো ঘটনা। গত ১০০ বছরে সম্ভবত এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।
ডিস্যান্টিসের আশঙ্কা, নির্বাচনের এই বিপর্যয়ের প্রভাব রিপাবলিকান পার্টিকে আগামী এক দশক কিংবা তারও বেশি সময় ধরে বহন করতে হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিপাবলিকান পার্টির জন্য টেক্সাস যদি একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে দলটির কার্যকর থাকার সুযোগ থাকবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ডিস্যান্টিসও ভ্যান্সের মতো রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে নিজের অবস্থান তৈরি করতে চাইছেন।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাটদের বড় সাফল্য এলেও ফ্লোরিডা মূলত রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প-পরবর্তী রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য রাজনৈতিক কাঠামো ও নীতির পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে এই অঙ্গরাজ্যকে ব্যবহার করে আসছেন ডিস্যান্টিস।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ রসিকতা করে বলেছিলেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা হয়তো বুধবার সকাল থেকেই শুরু হয়ে যাবে।
ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির পরোক্ষ সমালোচনা এবং ডিস্যান্টিসের সক্রিয় অবস্থান সেই ধারণাকেই আরও জোরালো করেছে।
ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয় শুধু কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যই বদলে দেয়নি; ট্রাম্প-পরবর্তী সময়ে দলটির নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, তা নিয়েও নতুন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সূচনা করেছে।


