রাশিয়াজুড়ে এক রাতে ১ হাজার ১১০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে মস্কো। এর মধ্যে ৪৫০টি ড্রোন মস্কোর দিকে আসছিল বলে জানিয়েছেন রাজধানীর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। হামলার ঘটনাকে মস্কোর ওপর ‘অভূতপূর্ব’ ও সর্ববৃহৎ আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রুশ সংবাদমাধ্যম তাস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
রুশ কর্মকর্তারা জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মস্কো অঞ্চলে হামলায় একটি তেল শোধনাগার ও একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভের দাবি, এতে দুজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭৪ বছর বয়সী এক পুরুষ ও ৪৪ বছর বয়সী এক নারী রয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল, ক্রিমিয়া ও কৃষ্ণসাগরের ওপর দিয়ে উড়ে আসা মোট ১ হাজার ১১০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার তেল ও লজিস্টিক স্থাপনায় হামলায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে কিয়েভ। এর মধ্যে ইউক্রেনে তৈরি ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ ও ‘পেলিকান’ ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে অর্থ জোগানো স্থাপনাগুলোতেই আঘাতের লক্ষ্য ছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে, রাশিয়ার তিন দিনব্যাপী সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিনে এই হামলা চালানো হয়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, নির্বাচন ব্যাহত করতেই এই ‘অভূতপূর্ব হামলা’ চালানো হয়েছিল। তবে তার দাবি, হামলার সেই উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকাতেও রুশ হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, শনিবার খেরসন অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় এক ধর্মযাজক নিহত ও চারজন আহত হন। একই দিন কিয়েভে রুশ হামলায় এক মা ও তার দুই সন্তান নিহত হন; পরে আহত আরেক শিশুও হাসপাতালে মারা যায়।
এদিকে, যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলা রাশিয়ার অভ্যন্তরে আরও গভীরে পৌঁছাচ্ছে। একই সময়ে পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের প্রায় ১ হাজার ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও স্থলভিত্তিক রোবটের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে স্থলবাহিনীর চলাচলও কঠিন হয়ে উঠেছে।


