...|...|...

সারাদেশ

টেকনাফে পাহাড় কাটার মহোৎসব: নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, সকাল ৬:৩১ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, রাত ১:৩০
Shares
টেকনাফে পাহাড় কাটার মহোৎসব: নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ
বর্ষা শুরু হতে না হতেই টেকনাফের পাহাড়ী জনপদে পাহাড় কাটার ধুম পড়েছে| বনবিভাগ এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। টেকনাফ উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের বসবাস। এই এলাকাটি পাহাড়ে ঘেরা সৌন্দর্য্যরে লীলাভুমি যা চোখে না দেখলে সহজে বুঝা যাবে না। প্রতি বছর পর্যটন মৌসুমে পাহাড়ের আকাঁ-বাকা, উচুনিচু দৃশ্যগুলো দেখার হাজার হাজার পর্যটকের আগমণ হয়। অথচ প্রতি বছর বর্ষা শুরুতেই ভুমি দস্যুরা পাহাড় কাটার মিশনে নেমে পড়ে। এতে দিনের পর দিন নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটকদের আকর্ষণ করার সৌন্দর্য্য।
সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কারণে ভূমিগ্রাসীদের কবল থেকে রেহাই পাচেছ না। সরকার এই পাহাড় এবং পাহাড়ের গাছগুলোকে রক্ষা করার জন্য প্রচুর টাকা বেতন দিয়ে প্রতিটি এলাকায় বিট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্ত তাদের উদাসীনতার কারণে ভূমিগ্রাসীরা দিনের পর দিন পাহাড়ি কেটে জবর দখল করে বসতি স্থাপন করছে।
সর্বসাধারণের চোখে বিষয়টি ধরা পড়লেও সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে জানতে চাইলে এরা কোন কিছু জানেননা বলে এড়িয়ে যান।
সরজমিনে টেকনাফ পাহাড়ি জনপদ এলাকা গুলো ঘুরে দেখা যায়, বর্ষার বৃষ্টির সুযোগ কাজে লাগাতে পাহাড় শুরু হয়েছে। সেই রকম একটি চিত্র চোখে পড়ে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মহেশখালিয়াপাড়াসহ মহাসড়ক সংলগ্ন পাহাড়গুলোতে| এছাড়া পৌর এলাকার উপজেলা পরিষদের পেছনে, সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী, বড়ইতলী, হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী, আলীখালী, রছুলাবাদ, বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ের চিত্র একই রকম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসমস্ত এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন ভূমিগ্রাসীরা পাহাড়ি বনাঞ্চল দখল করার জন্য রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপন করে দিয়ে আস্তে আস্তে পাহাড় কাটা শুরু করে। একসময় পাহাড়টি সমতলে রুপ নিয়ে ভূমিগ্রাসীরা দখলে নেয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, পর্যটক নির্ভর অপরূপ টেকনাফ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য রক্ষা করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে উপজেলার সবকটি পাহাড়ে অবৈধভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে এবং চিহ্নিত ভূমিগ্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। নতুবা আমাদের ঐতিহ্যগত এই পাহাড়ি সম্পদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য একদিন হারিয়ে গিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হবে।
এব্যাপারে কক্সবাজার দক্ষিণের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জানান, এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। সম্প্রতি টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নে পাহাড় থেকে ২টি বসতবাড়ি উচ্ছেদ, পৌর এলাকার নতুন পল্লানপাড়ার হেচ্ছারখাল সংলগ্ন ৩টি ঘর উচ্ছেদ, হ্নীলা ইউনিয়নের পাহাড়ে মাটি কাটার সময় ৩টি ট্রলি আটক করা হয়েছিল। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।