যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের পর ‘গুল’ খাইয়ে হত্যার দায়ে মো. জিল্লুর মোল্লাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ৩টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লুর মোল্লা ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের আছাদ মোল্লার ছেলে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে জিল্লুর মোল্লার সাথে ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন জিল্লুর। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ বিকেলে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে নিহতের স্বজনেরা জানতে পারেন, পারিবারিক কলহের জেরে ওই নারী ‘গুল’ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
খবর পেয়ে স্বজনেরা জিল্লুরের বাড়িতে গিয়ে উঠানে একটি চৌকির ওপর ওই নারীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে শুরু থেকেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
পরে নিহতের দুলাভাই ইমরান মোল্লা বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন।
এ মামলার তদন্ত ও ময়নাতদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়। নিহতের শ্বাসনালি ও পরিপাকতন্ত্রে উচ্চমাত্রার নিকোটিনজাত বিষক্রিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। চিকিৎসকের মতামতেও মৃত্যুটিকে হত্যাজনিত বলে উল্লেখ করা হয়। এর পরই ‘গুল’ খেয়ে আত্মহত্যার দাবি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং তদন্তে হত্যার বিষয়টি সামনে আসে।
আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমুদ্দিন মামলাটি তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে জিল্লুর মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে আদালত জিল্লুর মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় আদালত দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আদালতের এই কঠোর রায় যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে।


