রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা একটি ব্রিজের ভাঙা অংশ দিয়ে খালে পড়ে রাফি (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির সাইডওয়াল ও নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙা থাকায় অসাবধানতাবশত খালে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের করল্যাছড়ি বাজার সংলগ্ন ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাফি একই ইউনিয়নের আদর্শ পাড়া এলাকার মো. নাছিরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে রাফি করল্যাছড়া বাজারের প্রধান ব্রিজ দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় ব্রিজের এক পাশে দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা গার্ডরেল ও সাইডওয়ালের ফাঁক দিয়ে অসাবধানতাবশত নিচের খালে পড়ে যায় সে। পানিতে পড়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর তাকে উদ্ধার করে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও স্থানীয়দের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, করল্যাছড়া বাজারের এই ব্রিজটি এলাকার মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন শিশু, শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ অসংখ্য মানুষ ব্রিজটি ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির একাধিক অংশ ভাঙা এবং সাইডওয়াল ও নিরাপত্তা রেলিং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও তা সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ব্রিজের ভাঙা অংশটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আমরা বারবার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। কিন্তু সময়মতো সংস্কার করা হয়নি। আজ একটি শিশুর প্রাণ গেল। এমন দুর্ঘটনা আর যেন কারও পরিবারের কান্নার কারণ না হয়।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, এই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ চলাচল করেন। বিশেষ করে শিশুরা ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। দ্রুত ভাঙা অংশ মেরামত করে নিরাপত্তা রেলিং নির্মাণ করা জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার পর সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে ব্রিজটির সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করতে হবে।
এলাকাবাসী দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।


