বগুড়ার কাহালুতে ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণের পৃথক দুটি মামলায় নুর ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে দুই মামলায় ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী দুই শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মারুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত নুর ইসলাম কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের আড়োলা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মৃত হবিবর রহমানের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় নুর ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ আড়োলা আবাসন প্রকল্পে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে খাবার ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণ করেন বলে নুর ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন এক শিশু জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং অপর শিশুর তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে ভুক্তভোগী এক শিশুর মা বাদী হয়ে কাহালু থানায় মামলা করেন।
মামলার পর পুলিশ দুই শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ অভিযানে নুর ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ভুক্তভোগী শিশুদের ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত নুর ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার সার্বিক বিষয় ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত নুর ইসলামকে পৃথক দুটি মামলায় ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী একটি সাজা ভোগের পর অপর সাজা শুরু হবে।
পিপি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুই মামলায় ধার্য করা মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করা হবে। পরে ওই অর্থ ভুক্তভোগী দুই শিশুর পরিবারকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।


