...|...|...

চট্টগ্রাম

উদ্বোধনের ২ বছরের মাথায় পল্টুন বিধ্বস্ত সেন্টমার্টিন জেটির

বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:১৫ | আপডেট: ৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৪৮
Shares
উদ্বোধনের ২ বছরের মাথায় পল্টুন বিধ্বস্ত সেন্টমার্টিন জেটির

সেন্টমার্টিনদ্বীপে নির্মাণাধীন জেটির প্রধান পল্টুনটি উদ্বোধনের মাত্র দুই বছরের মাথায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পল্টুনের বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরে বড় বড় ফাটল ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আগামী নভেম্বর মাস থেকে দ্বীপে নিয়মাতান্ত্রিকভাবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জেটির এই বেহাল দশা ও অবকাঠামোগত ভাঙনে আসন্ন পর্যটন মৌসুম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দ্বীপে আগত পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

জানা গেছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়তের জন্য এই জেটিটিই একমাত্র প্রধান মাধ্যম। কিন্তু যথাযথ তদারকি ও নির্মাণ কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উদ্বোধনের এত স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রধান পল্টুনের এই জরাজীর্ণ কঙ্কালসার দশা কোনোভাবেই মেনে নিতে নারাজ স্থানীয়রা। ২০০৭ সালে ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে জেটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বিভিন্ন সময় ঘূর্ণিঝড়ে জেটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে। তবুও জরাজীর্ণ এ জেটিতে মানুষ ব্যবহার করে।

গত ১১ বছর জেটিতে বড় ধরনের কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। তাতে জেটিটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। পরে সরকার ২০২৫ সালের শুরুর দিকে সেন্টমার্টিনের জেটির জন্য ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। ৭ কোটি টাকার প্রকল্পে ৭০টি পিলার ও তিনটি সিঁড়ি এবং অন্যান্য কাজ। এসব কাজগুলো দায়সারাভাবে করে চলে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের মে মাসের শুরু হয়েছিল নির্মাণ কাজ। নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতে আবারও ভাঙন ধরেছে। এতে দ্বীপবাসী কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিএনপি সরকার আমলে ২০০২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর প্রায় ৪ কোটি ব্যয়ে ৩৫০ মিটার দৈর্ঘ্য জেটিটি নির্মাণ করেছিল। সেটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় কক্সবাজার জেলা পরিষদকে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, জেটিটি আমাদের দ্বীপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র দুই বছরের মধ্যে প্রধান পল্টুনের এই অবস্থা দেখে আমরা স্তম্ভিত। আর কিছুদিন পর দ্বীপে হাজার হাজার পর্যটক আসবেন। এই ভাঙাচোরা পল্টুন দিয়ে তারা কীভাবে ওঠানামা করবেন ? আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সংস্কার চাই।

দ্বীপে চলাচলকারী পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দবাদের কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, জেটির অবস্থা ভালো না থাকলে জাহাজ ভেড়ানো এবং যাত্রী ওঠানো-নামানো চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা প্রশাসন এই ত্রুটি নিরূপণ করে মেরামতের ব্যবস্থা না নেয়, তবে এবার পর্যটন ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

জেটির এই নাজুক পরিস্থিতি ও স্থানীয়দের উদ্বেগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন,  উদ্বোধনের মাত্র দুই বছরের মাথায় প্রধান পল্টুনটি যেভাবে ভেঙে এবং মরিচা ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এই দ্বীপের হাজার হাজার বাসিন্দা এবং আর কিছুদিন পর থেকে লাখো পর্যটক এই পথেই যাতায়ত করবেন। বর্তমান যে অবস্থা, তাতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি-বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যেন জরুরি ভিত্তিতে কারিগরি টিম পাঠিয়ে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হয়। 

দ্বীপে চলাচলকারী পর্যটকবাহী সি-ক্রুজ অপারেটরদের সংগঠনের নেতা মুফিজুর রহমান জানান, প্রতি বছর জেটির ভঙ্গুর দশার কারণে জাহাজ ভেড়াতে এবং পর্যটকদের ওঠানামা করাতে তাদের চরম বেগ পেতে হয়। এবার পল্টুনের অবস্থা আরও বেশি নাজুক। আমরা দ্রুত সংস্কারের জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এব্যাপারে কক্সবাজার জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, জেটির এই অংশটি বর্ষার কারণে নির্মাণ করা হয়নি। ত্রুটি নিরূপণ করে দ্রুত সংস্কার কাজ চালু করা হবে। বর্ষা শেষ হলে দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, সেন্টমার্টিন জেটির পল্টুন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি অবগত হয়েছি। পর্যটন মৌসুম পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।