...|...|...

বিশ্ব

ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোয় ভয়াবহ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, সকাল ১০:৪৩ | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬, রাত ১২:২৬
Shares
ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোয় ভয়াবহ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ আবারও চরমে পৌঁছেছে। ইরানজুড়ে নতুন করে ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে একে অন্যতম ভারী এবং তীব্র হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এই দফায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন কৌশলগত শহর ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে উপর্যুপরি হামলা চালানো হয়েছে।

প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত রাতে মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর ও অঞ্চল। এর মধ্যে রয়েছে- তাবরিজ, আবহার, হামেদান, বানেহ, কানগাভার বা নাহাভান্দ, মাহশাহর, ওমিদিয়েহ, বেহবাহান, বুশেহর, বন্দর আব্বাস, সিরিক, কেশম দ্বীপ, কোনারাক বা চাবাহার, পারদিস, পারচিন, ফাসা এবং উরমিয়া। এছাড়া প্রত্যন্ত গ্রামীণ ও সীমান্ত এলাকার অনেক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি।

সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় ইরাকের সাথে অবস্থিত কৌশলগত শলামচেহ সীমান্ত চৌকিও আক্রান্ত হয়েছে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন সাধারণ তীর্থযাত্রী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি এখন বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপরও হামলা চালানো হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।

চলমান এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার খরচের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। তবে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, প্রকৃত ব্যয় এর চেয়েও অনেক বেশি। এই প্রাথমিক হিসেবের মধ্যে নতুন সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর মেরামতের খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সাম্প্রতিক সংঘাত কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিমান হামলাই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর তীব্র জবাবও দিচ্ছে ইরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সম্প্রতি জর্ডানের প্রিন্স হাসান এবং কিং ফয়সাল বিমান ঘাঁটিতে জোরালো হামলা চালিয়েছে। স্যাটেলাইট ইমেজেও কিং ফয়সাল ঘাঁটির হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘এএন/এফপিএস-১১৭’ দীর্ঘ-পাল্লার রাডার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেন্টকম এক বিবৃতিতে ইরানি হামলায় তাদের আরও এক সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানে আরও কঠোর আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বারবার সক্রিয় হয়ে ওঠায় বোঝা যাচ্ছে যে পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।