ওমানের মুসান্দাম উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালীর সংলগ্ন জলসীমায় অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাটানা বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি কেপ দাও’-তে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। পরে ওমানি যুদ্ধজাহাজ দ্রুত এগিয়ে এসে জাহাজটি থেকে অন্য ২৭ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।
তথ্য অনুযায়ী, এমভি কেপ দাও জাহাজে মোট ২৮ জন ক্রু ও নাবিক কর্মরত ছিলেন। ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, হামলার পরপরই জাহাজের ইঞ্জিন রুমে প্রচণ্ড আগুন ধরে যায়, যার ফলে এক নাবিক প্রাণ হারান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সীমান্তবর্তী ওমানের মুসান্দাম ছিটমহল থেকে প্রায় ৪.৬ কিলোমিটার দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ওমানের একটি যুদ্ধজাহাজ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাল্ক ক্যারিয়ারটির সহায়তায় এগিয়ে যায় এবং ২৭ জনকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করে।
এদিকে, মস্কটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস তাদের নাগরিকের এই আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, জাহাজে থাকা ২৮ জন ক্রুর মধ্যে ১৯ জনই ছিলেন ভারতের নাগরিক। এছাড়া ভারতের ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন নিহত ভারতীয় নাবিকের নাম সুরজ যাদব বলে শনাক্ত করেছে, যিনি উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা।
সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, জাহাজটিতে দুটি টর্পেডো আঘাত হেনেছিল— যার একটির লক্ষ্য ছিল ইঞ্জিন রুম এবং অন্যটি আঘাত হানে নাবিকদের থাকার কোয়ার্টারে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ওই ইউনিয়ন ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবহরের নিরাপত্তা প্রহরা বা এসকর্ট দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে। তবে এমভি কেপ দাও জাহাজে এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত ইরান কিংবা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই স্বীকার করেনি।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৩ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকার সময় বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছে।


