বিশ্ববাজারে ডিজেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই জ্বালানি রপ্তানি সীমিত বা নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের কৌশলগত ডিজেল মজুত থেকে সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে, তা পর্যালোচনা করছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) ইউরোপের প্রতি আরও সরাসরি আহ্বান জানান বেসেন্ট। তিনি বলেন, চলমান সরবরাহ বিঘ্ন মোকাবিলায় ইউরোপীয় অংশীদারদের তাদের আগের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত জ্বালানি ছাড়ার পাশাপাশি অবিলম্বে অতিরিক্ত সরবরাহের ব্যবস্থা করা উচিত।
সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে সামনে রেখে ব্রিটেনও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, তাদের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় এবং স্থিতিস্থাপক হলেও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজেল রপ্তানিকারক যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির ডিজেল রপ্তানি দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে মার্কিন সরবরাহে বড় ধরনের কাটছাঁট হলে ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর আরও চাপ পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে যুক্তরাজ্যে ডিজেলের দাম ইতোমধ্যেই রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে। আরএসি জানিয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর গড় দাম প্রতি লিটারে ১৯৯ দশমিক ১৮ পেন্সে পৌঁছায়, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ইরান যুদ্ধ ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রধান সরবরাহকারী দেশের রপ্তানি কমে যাওয়ায় ডিজেল বাজারে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বৃত্ত ডিজেল দেশের ভেতরে ধরে রাখা গেলে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে জ্বালানি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য আরও বাড়াতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


