কিউবার ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জ্বালানি অবরোধ চলার মধ্যে দেশটির উদ্দেশে যাওয়া দুটি জাহাজ আটকের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজ দুটি গোপনে বিপুল পরিমাণ ডিজেল কিউবায় নেওয়ার চেষ্টা করছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
মার্কিন কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ ‘গ্রেস’ নামের জাহাজটি গত ৫ সেপ্টেম্বর কিউবা ও মেক্সিকোর মধ্যবর্তী ক্যারিবীয় সাগর থেকে আটক করা হয়। জাহাজটি গভীর সমুদ্রে নিজেদের গতিবিধি গোপন রাখতে ‘ডার্ক ফ্লিট’ কৌশল ব্যবহার করছিল বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। অভিযানে মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষও অংশ নেয়।
আটকের পর ‘গ্রেস’কে মেক্সিকোর প্রোগ্রেসো বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মেক্সিকান নৌবাহিনীর পরিদর্শকরা জাহাজটির ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি থাকার তথ্য নিশ্চিত করেন। সাধারণত জাহাজের ভারসাম্য ও ভাসমান অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কে পানি রাখা হয়।
এবিসি নিউজের হাতে আসা ভিডিওতে বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরিহিত কোস্ট গার্ড সদস্যদের অস্ত্র হাতে জাহাজটিতে উঠতে দেখা গেছে। একই সময় কোস্ট গার্ডের আরেকটি নৌযান ‘গ্রেস’-এর পাশে অবস্থান করছিল।
এর আগে ২৮ জুন ‘জায়রা প্রোভাইডার’ নামের আরেকটি কিউবাগামী জাহাজ আটক করে কোস্ট গার্ড। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই জাহাজে ২ লাখ গ্যালনেরও বেশি জ্বালানি ছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে পরিমাণটি প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার গ্যালন বলা হয়েছে। জ্বালানি সেখানেও ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কে রাখা হয়েছিল।
দুটি জাহাজ আটক করা হয়েছে এমন সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন কিউবায় জ্বালানি প্রবাহ ঠেকাতে অবরোধ কার্যকর করছে। মার্কিন প্রশাসন বলছে, কিউবার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চাপ তৈরিই এই নীতির লক্ষ্য। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশটিতে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে, যার প্রভাব পানি সরবরাহ, হিমায়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও পড়ছে।
কোস্ট গার্ডের কমান্ড্যান্ট অ্যাডমিরাল কেভিন লন্ডে বলেছেন, গভীর সমুদ্রকে অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহার করে যারা নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।


