সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত দুটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান ফের শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে একটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি সৌদি আরবে এবং আরেকটি কাতারে পাঠানো হয়েছে। সৌদি আরবের ব্যাটারিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা এবং কাতারেরটি একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনার সুরক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে।
এই মোতায়েনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একই সঙ্গে এই ব্যবস্থা ও এর ইন্টারসেপ্টরের মজুতও সীমিত। উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজস্ব প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা থাকলেও বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কায় তারা অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য ওয়াশিংটনের সহায়তার ওপর নির্ভর করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব ও কাতারের নেতৃত্ব এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, এমন হামলা হলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
সৌদি আরব সম্প্রতি হুথি ও ইরাকভিত্তিক শিয়া মিলিশিয়াদের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ও ইয়ানবু এলাকায় তেল স্থাপনাগুলোকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।
অ্যাক্সিওস বলছে, নতুন মোতায়েনের লক্ষ্য শুধু জ্বালানি স্থাপনা রক্ষা নয়, বরং সৌদি আরব ও কাতারকে আশ্বস্ত করাও—ইরানকে ঘিরে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষায় পাশে থাকবে।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতিও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সেনা পাঠানোর পাশাপাশি আরও বড় সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা হচ্ছে।


