গাজা শহরের একটি আবাসিক ভবনে দখলদার ইসরায়েলি বিমান হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর সহায়তায় কাজ করা দুই খ্রিস্টান নারী এবং একজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রভাষক ও তাঁর মা রয়েছেন। শনিবার ভোরে পশ্চিম রিমাল এলাকার হায়দার গোলচত্বরের কাছে ‘আল-আসালা ১’ ভবনের নিচতলায় এই হামলা চালানো হয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
গাজার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের চারজন নারী। তাঁদের পরিচয়—মাইসা আবু দাউদ, তাঁর মেয়ে মেরি নাজ্জার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ইয়াসমিন আল-বৌবু এবং তাঁর মা হাল্লুম আল-বৌবু। হামলায় আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনের হায়ার প্রেসিডেনশিয়াল কমিটি ফর চার্চ অ্যাফেয়ার্স জানিয়েছে, মাইসা ও তাঁর মেয়ে মেরি গাজার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। তাঁরা হোলি ফ্যামিলি চার্চে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত পরিবার ও চার্চের সদস্যদের সহায়তায় কাজ করতেন। তাঁদের মৃত্যুতে স্থানীয় খ্রিস্টান নেতারা শোক জানিয়েছেন।
মেরির ১৪ বছর বয়সী ছেলে ফুয়াদ আল-নাজ্জার আনাদোলুকে জানায়, রাত দেড়টার দিকে ভবনটিতে হামলা হয়। সে বলে, হামলায় সে তার মা ও দাদিকে হারিয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধ ও প্রাণহানিতে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে বলেও জানায় সে।
নিহত আরেকজন ইয়াসমিন আল-বৌবু গাজার ইউনিভার্সিটি অব প্যালেস্টাইনের কলেজ অব ইন্টারমিডিয়েট স্টাডিজের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। একই হামলায় তাঁর মা হাল্লুম আল-বৌবুও নিহত হন। তাঁর মৃত্যুতে ফিলিস্তিনি শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মীরা শোক প্রকাশ করেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার আগে কোনো সতর্কতা দেওয়া হয়নি। হামলার পর ভবনটিতে আগুন ধরে যায় এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালায় ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো এই ঘটনাকে চলমান যুদ্ধবিরতির আরেকটি লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আনাদোলু।
গাজার খ্রিস্টান সম্প্রদায় এর আগেও হামলার শিকার হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেন্ট পোরফিরিয়াস চার্চ প্রাঙ্গণে হামলায় বহু মানুষ নিহত হন। ২০২৫ সালের জুলাইয়েও হোলি ফ্যামিলি ক্যাথলিক চার্চ প্রাঙ্গণে হামলায় তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।
ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় বহু শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ নিহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় মোট ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।


