রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মলদোভার আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় দেশটিতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে চিসিনাউ। প্রতিবেশী ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার মধ্যে কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এমন পদক্ষেপ নিল মলদোভা। শনিবার (৩ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
মলদোভার কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শনিবার ভোরে রুশ হামলার সময় পাঁচটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় ঢুকে চারটি জেলার বিভিন্ন এলাকার কাছে বিস্ফোরিত হয়। এতে কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ড ও সম্পদের ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে সার্বভৌম আকাশসীমার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং মস্কোকে এ ধরনের ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছে। এর মাত্র দুই দিন আগেও তিনটি ড্রোন মলদোভার আকাশসীমায় প্রবেশের ঘটনায় রুশ দূতকে তলব করা হয়েছিল।
মলদোভার প্রেসিডেন্ট মায়া সান্দু বলেছেন, রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ এখন ক্রমেই তার দেশের কাছাকাছি চলে আসছে। তিনি বলেন, মাত্র প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে পাঁচটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মলদোভার আকাশসীমা অতিক্রম করে এবং দেশটির ভূখণ্ডে বিস্ফোরিত হয়।
সান্দু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, মস্কোর এসব কর্মকাণ্ড শুধু মলদোভা নয়, ইউরোপজুড়ে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তবে রাশিয়া সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে রুশ রাষ্ট্রদূত ওলেগ ওজেরভ মলদোভার অভিযোগগুলোকে প্রমাণহীন বলে দাবি করেছিলেন এবং যৌথ তদন্তের প্রস্তাব উপেক্ষার অভিযোগ তুলেছিলেন।
মলদোভার সরকারি হিসাবে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত রুশ ড্রোন দেশটির আকাশসীমায় ৪৫ বারের বেশি প্রবেশ করেছে। শুধু গত এক সপ্তাহেই আটবার এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে চিসিনাউ। এসব অনুপ্রবেশের কারণে দেশটির আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
ন্যাটোর সদস্য না হলেও মলদোভা ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর দেশটি নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিচ্ছে।


